ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীমিত ভোটাধিক্যে নির্বাচিত ১৫ সংসদ সদস্য: নির্বাচনী ফলাফলে নতুন মাত্রা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ জন সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০ শতাংশের কম ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে এই ১৫ জন প্রার্থীর বিজয়ের চিত্র নির্বাচনী ফলাফলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, যা ওই আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৪.৫৬ শতাংশ। একইভাবে, ময়মনসিংহ-৬ আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৩.০৩ শতাংশ। এই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতার সুলতানা ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনে বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩২.৩৮ শতাংশ। একই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবাহান ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৫.৮৭ শতাংশ। গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৯.৮৩ শতাংশের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ডা. কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.৫০ শতাংশ। নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.১২ শতাংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৩.৮৬ শতাংশ।

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির সেলিম ভূঁইয়া পোস্টাল ভোটসহ ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.২৫ শতাংশ। কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৯.৫৪ শতাংশ। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক তালা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৪.৪৩ শতাংশ।

মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৬.২৬ শতাংশ। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৩৮ শতাংশ। চাঁদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.৫৪ শতাংশ।

এই ফলাফলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

সীমিত ভোটাধিক্যে নির্বাচিত ১৫ সংসদ সদস্য: নির্বাচনী ফলাফলে নতুন মাত্রা

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ জন সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০ শতাংশের কম ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে এই ১৫ জন প্রার্থীর বিজয়ের চিত্র নির্বাচনী ফলাফলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, যা ওই আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৪.৫৬ শতাংশ। একইভাবে, ময়মনসিংহ-৬ আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৩.০৩ শতাংশ। এই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতার সুলতানা ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনে বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩২.৩৮ শতাংশ। একই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবাহান ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৫.৮৭ শতাংশ। গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৯.৮৩ শতাংশের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ডা. কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.৫০ শতাংশ। নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.১২ শতাংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৩.৮৬ শতাংশ।

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির সেলিম ভূঁইয়া পোস্টাল ভোটসহ ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.২৫ শতাংশ। কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৯.৫৪ শতাংশ। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক তালা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৪.৪৩ শতাংশ।

মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৬.২৬ শতাংশ। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৩৮ শতাংশ। চাঁদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৩৮.৫৪ শতাংশ।

এই ফলাফলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।