ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের আলটিমেটাম, দেশজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারা সরকারি কর্মচারীরা এবার মাঠে নামছেন। নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। গতকাল শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান এবং মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রবর্তিত অষ্টম পে-স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে প্রথম থেকেই আবেদন-নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো সরকারই তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি বিগত কোনো সরকারই এ বিষয়ে সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি, যদিও বিএনপির সময় ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে দুটি সুষম পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যা কর্মচারীদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ২০১৯ সাল থেকে একটি বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও আবেদন জানানো হয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়।

নবম পে-স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি পে-কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের কাছে জমা পড়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি বলে দাবি করেছে ঐক্য পরিষদ।

বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘ ১১ বছরের বঞ্চনা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এই প্রেক্ষাপটে, গত ২০ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে:

১. আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করবেন।
২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
৩. পবিত্র মাহে রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পরবর্তী ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের আলটিমেটাম, দেশজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারা সরকারি কর্মচারীরা এবার মাঠে নামছেন। নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। গতকাল শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান এবং মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রবর্তিত অষ্টম পে-স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে প্রথম থেকেই আবেদন-নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো সরকারই তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি বিগত কোনো সরকারই এ বিষয়ে সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি, যদিও বিএনপির সময় ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে দুটি সুষম পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যা কর্মচারীদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ২০১৯ সাল থেকে একটি বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও আবেদন জানানো হয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়।

নবম পে-স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি পে-কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের কাছে জমা পড়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি বলে দাবি করেছে ঐক্য পরিষদ।

বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘ ১১ বছরের বঞ্চনা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এই প্রেক্ষাপটে, গত ২০ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে:

১. আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করবেন।
২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
৩. পবিত্র মাহে রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পরবর্তী ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।