ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

‘সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জামায়াতে ইসলামীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে ‘সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটি এই বক্তব্যের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সম্প্রতি সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ‘সমঝোতার’ নামে চাঁদাবাজিকে কার্যত বৈধতা দিয়েছেন। আমি তাঁর এই অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এটি সমাজ, অর্থনীতি ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যে যদি এমন বার্তা যায় যে অবৈধ অর্থ আদায় বা অনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক। এমন বৈধতা দান অপরাধীদের চাঁদাবাজির মতো আরও অনেক অপরাধ করতে উৎসাহিত করবে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলবে এবং জনগণকে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থেকে বঞ্চিত করবে।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সরকারের দায়িত্ব হলো চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনো অবস্থাতেই অপরাধকে ‘সমঝোতার’ নামে আড়াল করার সুযোগ নেই। মন্ত্রীর এই বক্তব্য রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দলটি মনে করে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও স্পষ্ট করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আপসহীন। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, দুর্নীতির ছিটেফোঁটাও দেশবাসী বরদাশত করবে না।”

দলটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করতে হবে। একই সাথে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী জোর দাবি জানিয়েছে যে, চাঁদাবাজি বন্ধ করে জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে সরকার ব্যর্থ হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারকে বাধ্য করা হবে। পরিশেষে, দলটি দেশবাসীকে ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি ট্যাংক ও সামরিক স্থাপনায় হিজবুল্লাহর জোরালো হামলা

‘সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জামায়াতে ইসলামীর

আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে ‘সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটি এই বক্তব্যের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সম্প্রতি সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ‘সমঝোতার’ নামে চাঁদাবাজিকে কার্যত বৈধতা দিয়েছেন। আমি তাঁর এই অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এটি সমাজ, অর্থনীতি ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যে যদি এমন বার্তা যায় যে অবৈধ অর্থ আদায় বা অনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক। এমন বৈধতা দান অপরাধীদের চাঁদাবাজির মতো আরও অনেক অপরাধ করতে উৎসাহিত করবে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলবে এবং জনগণকে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থেকে বঞ্চিত করবে।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সরকারের দায়িত্ব হলো চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনো অবস্থাতেই অপরাধকে ‘সমঝোতার’ নামে আড়াল করার সুযোগ নেই। মন্ত্রীর এই বক্তব্য রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দলটি মনে করে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও স্পষ্ট করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আপসহীন। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, দুর্নীতির ছিটেফোঁটাও দেশবাসী বরদাশত করবে না।”

দলটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, সড়ক, পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করতে হবে। একই সাথে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী জোর দাবি জানিয়েছে যে, চাঁদাবাজি বন্ধ করে জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে সরকার ব্যর্থ হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারকে বাধ্য করা হবে। পরিশেষে, দলটি দেশবাসীকে ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।