শরীয়তপুরের জাজিরায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাওডোবা গোলচত্বর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—স্টার এক্সপ্রেস বাসের হেলপার আকাশ সরদার ও সুপারভাইজার ইউনুস মোল্লা। তাদের উভয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘স্টার এক্সপ্রেস’ ও ‘খান পরিবহন’ নামের দুটি বাস নাওডোবা গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিরিক্ত গতির কারণে স্টার এক্সপ্রেস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা খান পরিবহনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে স্টার এক্সপ্রেসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেপরোয়া গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আধুনিক এই মহাসড়কে চালকরা প্রায়ই গতির সীমা লঙ্ঘন করেন, যা সাধারণ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সড়ক নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিপোর্টারের নাম 






















