ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

কদমতলীতে ইফতার বিতরণ: জয়নুল আবেদীনের মুখে ‘সেবক’ জামায়াত ও ‘কারচুপির’ অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। কদমতলী থানা জামায়াতের উদ্যোগে বুধবার রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২২০টি দরিদ্র পরিবারের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন জামায়াতকে জনগণের ‘সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিগত নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কারচুপির’ অভিযোগ তোলেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২২০টি দরিদ্র পরিবারের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন। কদমতলী থানা জামায়াতের উদ্যোগে এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবসময় সেবকের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জামায়াত আমিরের পূর্বঘোষণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা শাসক নয়, সেবক হতে চাই’। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই ইফতার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নয়, বরং জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব দলীয় অর্থায়নে উপহার হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের সেবায় নিবেদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। জামায়াত বিশ্বাস করে, মানুষ হিসেবে সমাজে আমরা সবাই সমান।

জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, জনগণ জামায়াত আমিরের ঘোষণায় আস্থা রেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিলেও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের’ মাধ্যমে তাদের ভোট কারচুপি করে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কারচুপির বহু প্রমাণ ইতিমধ্যেই জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে একটি বঞ্চিত ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি এটিকে নিরাপদ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাং দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবার বা দুর্নীতি চলবে না।

জামায়াতে ইসলামী কদমতলী পশ্চিম থানা আমির মো. কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কদমতলী পূর্ব থানা আমির মো. আব্দুর রহিম জীবন এবং কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা নেছার উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম, আব্দুল হান্নান পাটোয়ার, কাজী মনিরুল ইসলাম, মাওলানা হাসান উল্লাহ, মাসুদ রানা ও মো. মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

কদমতলীতে ইফতার বিতরণ: জয়নুল আবেদীনের মুখে ‘সেবক’ জামায়াত ও ‘কারচুপির’ অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। কদমতলী থানা জামায়াতের উদ্যোগে বুধবার রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২২০টি দরিদ্র পরিবারের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন জামায়াতকে জনগণের ‘সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিগত নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কারচুপির’ অভিযোগ তোলেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২২০টি দরিদ্র পরিবারের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন। কদমতলী থানা জামায়াতের উদ্যোগে এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবসময় সেবকের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জামায়াত আমিরের পূর্বঘোষণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা শাসক নয়, সেবক হতে চাই’। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই ইফতার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নয়, বরং জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব দলীয় অর্থায়নে উপহার হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের সেবায় নিবেদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। জামায়াত বিশ্বাস করে, মানুষ হিসেবে সমাজে আমরা সবাই সমান।

জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, জনগণ জামায়াত আমিরের ঘোষণায় আস্থা রেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিলেও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের’ মাধ্যমে তাদের ভোট কারচুপি করে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কারচুপির বহু প্রমাণ ইতিমধ্যেই জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে একটি বঞ্চিত ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি এটিকে নিরাপদ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাং দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবার বা দুর্নীতি চলবে না।

জামায়াতে ইসলামী কদমতলী পশ্চিম থানা আমির মো. কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কদমতলী পূর্ব থানা আমির মো. আব্দুর রহিম জীবন এবং কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা নেছার উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম, আব্দুল হান্নান পাটোয়ার, কাজী মনিরুল ইসলাম, মাওলানা হাসান উল্লাহ, মাসুদ রানা ও মো. মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।