সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিতব্য বাঁধগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও শেষ না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, এখনো অনেক বাঁধে মাটির কাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
উপজেলা জুড়ে ছোট-বড় ছয়টি হাওরে ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হালির হাওরের ২, ৬, ৭, ৮, ১৬ নং পিআইসি এবং পাগনার হাওরের ৩১ নং পিআইসিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এসব জায়গায় কোনো শ্রমিক বা কমিটির সদস্যের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, অনেক বাঁধে ঘাসযুক্ত বড় বড় মাটির চাকা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এছাড়া, অধিকাংশ বেড়িবাঁধে মাটির কাজের পাশাপাশি ড্রেজিং ও দুর্বাঘাস লাগানোর কাজও এখনো করা হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ১০টি বাঁধের মাটির কাজ এক-তৃতীয়াংশ বাকি ছিল।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিন বারী কাজের এমন ধীরগতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ৪১টি পিআইসির একটিরও কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। অধিকাংশ বাঁধে দুর্বাঘাস ও ড্রেজিংয়ের কাজ বাকি, কয়েকটি বাঁধে এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে আমরা সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।” দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করে কৃষকদের দুশ্চিন্তামুক্ত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি জানান, ৫-৭টি পিআইসিতে এখনো মাটির কাজ শেষ হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ বিল পরিশোধ করেছি এবং অচিরেই আরও ১২ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে। বিল পেলে কোনো কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে না।” যেসব পিআইসির কাজ বাকি আছে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মাটির কাজ শেষ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















