সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পাঁচ যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে এক দুর্বৃত্ত। গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার কাঁচপুর পারটেক্স খেলার মাঠে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ওই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় কাঁচপুর ইউনিয়নের রায়েরটেক এলাকার পারটেক্স খেলার মাঠ থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নীরব মিয়া নামের এক যুবক অভিযোগ করেন, তার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে এবং এ ঘটনায় তিনি আমিন মিয়াকে সন্দেহ করেন। মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নীরব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ঘটনার দিন গভীর রাতে আমিন মিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। আমিন মিয়া মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের খেলার মাঠে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমিন মিয়া তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে নীরব মিয়া, মো. সুজন, কাউসার মিয়া, সোহান ও চঞ্চল নামের পাঁচজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। আহতরা সবাই কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার বাসিন্দা।
আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী আমিন মিয়াকে ধরে ফেলে এবং তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমিন মিয়াকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এদিকে, গুরুতর আহত পাঁচজনকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আমিন মিয়া কাঁচপুর পুরান বাজার এলাকার কবির মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত নীরব মিয়ার খালা শিউলি বেগম বাদী হয়ে বুধবার গভীর রাতেই সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিববুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত আমিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















