জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অন্যতম আলোচিত দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন। রিটে এই সনদকে অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী তাঁর আবেদনে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিতের সপক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরেছেন। রিটের প্রধান যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ইতোমধ্যে সংবিধান পরিপন্থী ঘোষিত হওয়ায় দেশে বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আইনগতভাবে বহাল আছে। এমতাবস্থায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এবং এর অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনবহির্ভূত একটি পদক্ষেপ। তাই এটি বাতিলযোগ্য।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই সনদের মাধ্যমে গণভোটের আয়োজন করা সংবিধানের ৬৫ ও ১২৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগত ভিত্তি ব্যতীত সরকারের যেকোনো কার্যক্রম অগ্রহণযোগ্য। যেহেতু সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো আইনি সংজ্ঞাও বিদ্যমান নেই, তাই এই সনদ ও গণভোট সাংবিধানিক চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূলনীতির পরিপন্থী।
জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এবং আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি দিয়ে রিটে দাবি করা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার যে বাধ্যবাধকতা সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে রয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ তা ক্ষুণ্ণ করেছে। এছাড়া গণভোটের জন্য ব্যবহৃত ব্যালট পেপার আইনসম্মত কর্তৃত্ব ছাড়াই প্রণীত হয়েছে বলে রিটকারী উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট অসাংবিধানিক এবং এর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কার্যকর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, এই রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে। আদালত যদি রিটের সপক্ষে কোনো স্থগিতাদেশ দেন, তবে গণভোটের বৈধতা নিয়ে যেমন বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে, তেমনি এর অধীনে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনি আসন বিন্যাসের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























