ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরাইলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোম ফ্রন্ট কমান্ডসহ সকল উদ্ধারকারী সংস্থাকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সকল নিরাপত্তা সংস্থাকে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এছাড়া, বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করে আগামী রোববার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরান আলোচনার টেবিলে সময়ক্ষেপণ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তেহরান তার প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করবে। এই সংঘাতে ইসরাইল সরাসরি অংশ নিক বা না নিক, তাদের ওপর আঘাত আসার ঝুঁকি প্রবল।
ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আমোস ইয়াদলিন বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেন, “আমরা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় ধরনের সংঘাতের অনেক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।” দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদার করছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ এবং অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরাইলও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে অস্থিরতা থাকলেও পরিস্থিতির এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠককে কিছুটা ইতিবাচক বললেও জানিয়েছেন যে, ইরান এখনো মার্কিন ‘লাল রেখা’ বা শর্তগুলো মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো বলে দাবি করলেও সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো সুদূরপরাহত বলে মনে করছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























