ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

এনবিআর বিভক্তি অধ্যাদেশ: রুল ছাড়াই হাইকোর্টের দুই সপ্তাহ মুলতবি, সংসদীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক আদেশে আদালত কোনো রুল জারি না করেই এই সিদ্ধান্ত দেন। নতুন সরকার গঠনের পর সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হবে এবং অধ্যাদেশটি কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন, এমন যুক্তিতে আদালত সংসদের সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণের জন্য এই মুলতবি ঘোষণা করেন।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এদিন রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এনবিআরের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আদালতকে জানান, দেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সরকার গঠিত হওয়ার পর সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশটি কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন লাগবে। এজন্য আদালত সংসদের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা পর্যবেক্ষণের স্বার্থে কোনো রুল জারি না করে দুই সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি রেখেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ এই রিটটি দায়ের করেন। তার যুক্তি, এনবিআরের দুই বিভাগ গঠিত হলে সচিব পদে পদায়নে ভ্যাট ও ট্যাক্স বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এতে সচিব হওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা কমে গেছে। এছাড়া, বিভাগ বাস্তবায়নে ‘রুলস অব বিজনেস’-এ যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং উপদেষ্টা পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভূত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ পর্যন্ত রিটটির ওপর পাঁচ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ছিল পঞ্চম দিনের শুনানি। আদালতের এই মুলতবি আদেশের ফলে, এনবিআর পৃথকীকরণে জারীকৃত অধ্যাদেশটি আগামী সংসদে অনুমোদন পেলে দুটি বিভাগ গঠনে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত আগস্ট মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আরেকটি রিট উচ্চ আদালতের পৃথক একটি বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছিলেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ রিটটি ‘উপস্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে সরকার এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি করে। এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তারা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেন। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশে কিছু সংশোধনী আনা হলেও সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণের দাবিতে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সংক্রান্ত সেবাও বন্ধ করে দেন। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের খবর প্রকাশের পর গত ২৯ জুন রাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

এনবিআর বিভক্তি অধ্যাদেশ: রুল ছাড়াই হাইকোর্টের দুই সপ্তাহ মুলতবি, সংসদীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক আদেশে আদালত কোনো রুল জারি না করেই এই সিদ্ধান্ত দেন। নতুন সরকার গঠনের পর সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হবে এবং অধ্যাদেশটি কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন, এমন যুক্তিতে আদালত সংসদের সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণের জন্য এই মুলতবি ঘোষণা করেন।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এদিন রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এনবিআরের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আদালতকে জানান, দেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সরকার গঠিত হওয়ার পর সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশটি কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন লাগবে। এজন্য আদালত সংসদের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা পর্যবেক্ষণের স্বার্থে কোনো রুল জারি না করে দুই সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি রেখেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ এই রিটটি দায়ের করেন। তার যুক্তি, এনবিআরের দুই বিভাগ গঠিত হলে সচিব পদে পদায়নে ভ্যাট ও ট্যাক্স বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এতে সচিব হওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা কমে গেছে। এছাড়া, বিভাগ বাস্তবায়নে ‘রুলস অব বিজনেস’-এ যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং উপদেষ্টা পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভূত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ পর্যন্ত রিটটির ওপর পাঁচ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ছিল পঞ্চম দিনের শুনানি। আদালতের এই মুলতবি আদেশের ফলে, এনবিআর পৃথকীকরণে জারীকৃত অধ্যাদেশটি আগামী সংসদে অনুমোদন পেলে দুটি বিভাগ গঠনে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত আগস্ট মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আরেকটি রিট উচ্চ আদালতের পৃথক একটি বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছিলেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ রিটটি ‘উপস্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে সরকার এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি করে। এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তারা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেন। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশে কিছু সংশোধনী আনা হলেও সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণের দাবিতে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সংক্রান্ত সেবাও বন্ধ করে দেন। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের খবর প্রকাশের পর গত ২৯ জুন রাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।