রংপুরের পীরগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ছয়টি ব্যালট পেপার ও দুটি সিল করা উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধানের শীষ প্রতীকের, দুটি ‘হ্যাঁ’ এবং দুটি ‘না’ ভোটের। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সিলমারা এসব ব্যালট উদ্ধার করা হয়। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় ইউএনওকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। যাওয়ার পথে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানের শীষের সিলযুক্ত দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। যেখানে ০৩৮৫১৭ নম্বর উল্লেখ আছে। অপর ব্যালটে ০৪৬৩২৯ উল্লেখ আছে। হ্যাঁ ভোটের দুটি ও না ভোটের দুটির বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনের সিল ও স্বাক্ষর আছে।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নুরুল আমীন এক লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনরায় গণনার দাবিতে গত তিন দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, ভোটের দিন ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ফলাফলের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম একাধিক কেন্দ্রের ভোটে বিজয়ী হলেও তাকে হারানোর পরিকল্পনা থেকে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। এজন্য সিলযুক্ত ধানের শীষের ব্যালট পাওয়া গেছে। সকালে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ‘হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকালে কিছু শিক্ষার্থী ব্যালটগুলো দেখতে পায়। তারপর এলাকার লোকজনকে দেখালে ইউএনওকে জানানো হয়। ইউএনও এলে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে যান ইউএনও।’
হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৯ জন। ভোট কাস্ট হয়েছে ২ হাজার ৪০২টি। ধানের শীষ পেয়েছে ১ হাজার ৫৩২ ভোট আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৮৩২ ভোট।
এই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান বলেন, ‘সব প্রার্থীর এজেন্টের সামনে ভোটের বাক্স দেখিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু করি আমরা। ভোটগ্রহণ শেষে বাক্সের সিল তাদের সামনেই খুলে গণনা করা হয়। পরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওই সময় কোনও প্রার্থীর এজেন্টের কোনও প্রশ্ন ছিল না। সবাই ফল মেনে নেন। এখন বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের তো করার কিছুই নেই। সেগুলো কোথায় থেকে এলো, তা আমরা জানি না।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ইউএনওকে নিয়ে এসেছি আমরা। ছয়টি ব্যালট পেপার উদ্ধার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। সেটি নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন।’
রিপোর্টারের নাম 























