একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ মুক্ত এবং মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে, নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ৯৯ শতাংশই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানান। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া, যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। তাই, ফ্যাক্টের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা হয়েছে।
টিআইবির প্রতিবেদনটি ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসনকে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা হিসেবে বেছে নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই অন্তত একটি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনী দিনেও কেন্দ্রগুলোতে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর ওপর হামলা, কেন্দ্রের বাইরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া, বানোয়াট নিয়মের অজুহাতে ভোটারদের হয়রানি, একজনের ভোট অন্যজনের দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম ও ছবি না মেলায় অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৫টিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ৩৪টিতে ভোটার-কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ১৮টিতে বাড়িঘর-অফিসে হামলা এবং ১৬টিতে একই দলের বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
টিআইবির সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনের শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা পুরনো সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনী চর্চা বজায় রাখেন। এর ফলে দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, আন্তঃদলীয় কোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত টিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মো. মাহফুজুল হক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন যে, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আসনে সংঘটিত একটি মাত্র ঘটনাকেও রেকর্ড করা হয়েছে এবং এটি আসনের শতাংশের হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, ভোটের শতাংশের হিসেবে নয়।
রিপোর্টারের নাম 



















