সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের ফলাফলে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ লক্ষ্য করা গেছে। দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৮৭টিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলেও, ১২টি আসনে ‘না’ ভোটের আধিক্য দেখা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ১২টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। এই পাঁচ বিভাগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—উভয় ক্ষেত্রেই ভোটের হার এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অন্যদিকে, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রভাব বিস্তার করেছে এবং এই দুই বিভাগে ভোট ও গণভোটের হার বেশি ছিল।
গণভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৯ আসনের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। এই ১২টি আসনের মধ্যে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনও রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেও ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত ফলাফল অনুযায়ী, গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৬০.৮৪ শতাংশ, যা সংসদ নির্বাচনে পড়া ভোটের (৬০.১২ শতাংশ) চেয়ে সামান্য বেশি। ২৯৯টি আসনে গণভোটে মোট সাত কোটি ৭৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩টি ভোট পড়েছে, যার মধ্যে বৈধ ভোট সাত কোটি দুই লক্ষ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। বৈধ ভোটের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে পড়েছে চার কোটি ৮২ লক্ষ ৬৬০টি এবং ‘না’ পক্ষে পড়েছে দুই কোটি ২০ লক্ষ ৭২ হাজার ৭২৬টি।
তবে, গণভোটের একটি বড় অংশ বাতিল হয়ে গেছে। সাধারণ নির্বাচনে যেখানে ১৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ১৮২টি ভোট বাতিল হয়েছিল, সেখানে গণভোটে ৭৪ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট বাতিল হয়েছে। মোট কাস্টিং ভোটের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে পড়েছে ৬২.০৪ শতাংশ, ‘না’ পক্ষে ২৮.৪১ শতাংশ এবং ৯.৫৫ শতাংশ ভোট বাতিল হয়েছে।
গণভোটের এই ফলাফল, বিশেষ করে ‘না’ জয়ী ১২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ের সঙ্গে এর সংযোগ, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত এই সমন্বিত ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















