ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ব‍্যাংক কর্মকর্তা রিটকারীর পদোন্নতির প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫-এ রিট আবেদনকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যে পদোন্নতির শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে তা কেন সংবিধানের পরিপন্থী ও আইন বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে রিটকারীকে কেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং আবেদনকারী সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের তারিখ থেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী ভূতাপেক্ষভাবে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত। ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস. এম. মাহিদুল ইসলাম সজিব। 

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার আবেদনকারী মোছা. আফসানা মিমি ঝরনা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ড অফ ডিরেক্টস বরাবর একটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের পর কোন প্রতিকার না পেয়ে আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। 

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারী ২০১৮ সালে কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ২০২১ সালের ২৬ জুলাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। 

এরপর ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে আসছে, যার প্রমাণ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জারিকৃত পদোন্নতি আদেশসমূহ উল্লেখ করা যায়। 

যেহেতু রিটকারী ২০১৮ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন, সেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নজির, আইন অনুযায়ী তিনি যে বিধি ও আইনের অধীনে চাকুরীতে যোগদান করেন, সেই বিধানই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫ তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি তার পদোন্নতি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে চাকুরিক্ষেত্রে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উক্ত নীতিমালা প্রয়োগের কারণে তার জুনিয়র কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠতায় তার ব্যাচের পূর্বে চলে গেছেন।

রিটকারী তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যে নীতিমালার মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে তা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২০০৮ সালের প্রবিধানমালার সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক, তদুপরি মাঠ পর্যায়ে এসিআর-এর যে মানদণ্ড বিদ্যমান তা ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের নতুন মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, পূর্বে যেখানে ৮৫ নম্বরই ১০০ হিসেবে বিবেচিত হতো সেখানে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়েছে, আবার পদোন্নতির ভিত্তিকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন ২০২৫ অথচ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে, যা স্পষ্টতই আইনগত ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে। 

রিটকারী বলেন, “আমি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে একই পদে কর্মরত থেকে এই প্রত্যাশা ও প্রেরণা নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম যে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে আমি পদোন্নতি লাভ করবো, কিন্তু বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এই পদেই আমাকে অবসর গ্রহণ করতে হতে পারে, যা আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও অন্যায়।” 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

ব‍্যাংক কর্মকর্তা রিটকারীর পদোন্নতির প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫-এ রিট আবেদনকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যে পদোন্নতির শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে তা কেন সংবিধানের পরিপন্থী ও আইন বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে রিটকারীকে কেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং আবেদনকারী সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের তারিখ থেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী ভূতাপেক্ষভাবে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত। ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস. এম. মাহিদুল ইসলাম সজিব। 

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার আবেদনকারী মোছা. আফসানা মিমি ঝরনা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ড অফ ডিরেক্টস বরাবর একটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের পর কোন প্রতিকার না পেয়ে আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। 

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারী ২০১৮ সালে কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ২০২১ সালের ২৬ জুলাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। 

এরপর ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে আসছে, যার প্রমাণ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জারিকৃত পদোন্নতি আদেশসমূহ উল্লেখ করা যায়। 

যেহেতু রিটকারী ২০১৮ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন, সেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নজির, আইন অনুযায়ী তিনি যে বিধি ও আইনের অধীনে চাকুরীতে যোগদান করেন, সেই বিধানই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫ তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি তার পদোন্নতি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে চাকুরিক্ষেত্রে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উক্ত নীতিমালা প্রয়োগের কারণে তার জুনিয়র কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠতায় তার ব্যাচের পূর্বে চলে গেছেন।

রিটকারী তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যে নীতিমালার মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে তা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২০০৮ সালের প্রবিধানমালার সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক, তদুপরি মাঠ পর্যায়ে এসিআর-এর যে মানদণ্ড বিদ্যমান তা ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের নতুন মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, পূর্বে যেখানে ৮৫ নম্বরই ১০০ হিসেবে বিবেচিত হতো সেখানে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়েছে, আবার পদোন্নতির ভিত্তিকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন ২০২৫ অথচ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে, যা স্পষ্টতই আইনগত ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে। 

রিটকারী বলেন, “আমি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে একই পদে কর্মরত থেকে এই প্রত্যাশা ও প্রেরণা নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম যে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে আমি পদোন্নতি লাভ করবো, কিন্তু বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এই পদেই আমাকে অবসর গ্রহণ করতে হতে পারে, যা আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও অন্যায়।”