ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

গণতন্ত্রের নবযাত্রা: ১২ ফেব্রুয়ারির মডেল নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, বিরোধী দলে জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ‘ইতিহাসসেরা নির্বাচনের’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের (৫৫ শতাংশ) রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়ে ৮০টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তার আধুনিক নির্বাচনি কৌশল এবং ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ শীর্ষক রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসীদের জন্য নেওয়া কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। নিজের প্রথম নির্বাচনেই বগুড়া ও সিলেট অঞ্চলে চমকপ্রদ সাফল্যের মাধ্যমে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নির্বাচন নিয়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্ক, আইআরআইসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পাঁচ শতাধিক পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যবেক্ষক দলগুলো প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ।

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তাকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘ঈদের উৎসবের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রে ফেরার মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের (জেন-জি) অংশগ্রহণ ছিল এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক ও শিক্ষাবিদগণ এই নির্বাচনের অভাবনীয় সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই বিজয় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল। তারেক রহমানের মার্জিত রাজনৈতিক ভাষা এবং ‘প্রতিহিংসা বর্জনের’ ঘোষণা দেশবাসীকে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশে মানবাধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলের লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্রে সাময়িক উৎপাদন স্থগিত: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

গণতন্ত্রের নবযাত্রা: ১২ ফেব্রুয়ারির মডেল নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, বিরোধী দলে জামায়াত

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ‘ইতিহাসসেরা নির্বাচনের’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের (৫৫ শতাংশ) রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়ে ৮০টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তার আধুনিক নির্বাচনি কৌশল এবং ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ শীর্ষক রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসীদের জন্য নেওয়া কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। নিজের প্রথম নির্বাচনেই বগুড়া ও সিলেট অঞ্চলে চমকপ্রদ সাফল্যের মাধ্যমে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নির্বাচন নিয়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্ক, আইআরআইসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পাঁচ শতাধিক পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যবেক্ষক দলগুলো প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ।

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তাকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘ঈদের উৎসবের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রে ফেরার মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের (জেন-জি) অংশগ্রহণ ছিল এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক ও শিক্ষাবিদগণ এই নির্বাচনের অভাবনীয় সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই বিজয় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল। তারেক রহমানের মার্জিত রাজনৈতিক ভাষা এবং ‘প্রতিহিংসা বর্জনের’ ঘোষণা দেশবাসীকে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশে মানবাধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল।