দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে। ঈদের ছুটির আমেজকে কাজে লাগিয়ে জনগণ ভোট উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। একইসঙ্গে, এই ফলাফলে ‘আওয়ামী নীলনকশা’র ভরাডুবি হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। ভোটাররাও একটি উপযুক্ত ভোটদানের পরিবেশ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বিশিষ্টজনদের মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে, গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের অনুসারী সুশীল সমাজের একাংশ, পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ড. ইউনূস তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশবাসীকে কাঙ্ক্ষিত মানের ভোটদানের পরিবেশ উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিশিষ্টজনেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব সম্মিলিতভাবে প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ভোট বানচাল করার জন্য সীমান্তের ওপারের শক্তি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের আপ্রাণ চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে তিনি দেশে নিকৃষ্ট স্বৈরশাসন কায়েম করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের পর দেশে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেও, শান্তিপূর্ণ ভোটের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নানাভাবে তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু প্রফেসর ইউনূসের দৃঢ়তায় সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে তাদের সেই প্রতিবন্ধকতা টেকেনি।”
দেশের মানুষ বহু বছর ধরে এমন একটি ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিল জানিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, “মানুষ ভোট দিয়ে যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, এর চেয়ে বড় অর্জন এই সরকারের জন্য আর কিছু হতে পারে না।”
ভারতের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশটি গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি, ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের ভোট বানচাল করে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশ নিয়ে আওয়ামীপন্থীদের সব চক্রান্তের বেড়াজাল ভেঙে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় কৃতিত্ব।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, “বিপুল উৎসাহ ও আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ এমন একটি ভোটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। এই নির্বাচনটি যাতে না হয়, সেজন্য অপচেষ্টাও হয়েছিল। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সব চেষ্টা করেছিল। তারপরেও, সব বাধা উপেক্ষা করে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়া গণতন্ত্রের জন্য এক বিশাল বিজয়।”
—
রিপোর্টারের নাম 






















