ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তার চাদরে দেশ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাশকতারোধে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নাশকতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

গতকাল বুধবার থেকেই রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে কেপিআইভুক্ত এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নজরদারি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করার পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বৈধ নির্বাচনি পাস রয়েছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত নথিপত্র না থাকায় বেশ কিছু যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এসব এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাশকতার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং এনসিপির সমাবেশে হামলার মতো ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। কোনো মহলে যাতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে না পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সহ বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আনসার ও ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় সভা করে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, ভোটকেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি বা কেন্দ্র দখলের মতো কোনো খবর পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সোর্স এবং কমিউনিটি পুলিশিংকে সক্রিয় করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনি সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটের দিন যাতে এই সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি বা জাল ভোট দেওয়ার প্রচেষ্টা রুখতে কেন্দ্রের প্রবেশপথেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটারদের স্লিপ যাচাই করে তবেই কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সজাগ রয়েছে প্রশাসন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করলেন না মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

নিরাপত্তার চাদরে দেশ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাশকতারোধে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নাশকতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

গতকাল বুধবার থেকেই রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে কেপিআইভুক্ত এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নজরদারি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করার পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বৈধ নির্বাচনি পাস রয়েছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত নথিপত্র না থাকায় বেশ কিছু যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এসব এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাশকতার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং এনসিপির সমাবেশে হামলার মতো ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। কোনো মহলে যাতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে না পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সহ বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আনসার ও ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় সভা করে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, ভোটকেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি বা কেন্দ্র দখলের মতো কোনো খবর পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সোর্স এবং কমিউনিটি পুলিশিংকে সক্রিয় করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনি সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটের দিন যাতে এই সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি বা জাল ভোট দেওয়ার প্রচেষ্টা রুখতে কেন্দ্রের প্রবেশপথেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটারদের স্লিপ যাচাই করে তবেই কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সজাগ রয়েছে প্রশাসন।