জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন, ঢাকা-১১ আসনে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা কেন্দ্রগুলোতে তৈরি করে এক ভিন্নধর্মী পরিবেশ। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদগ্রীব।
বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্রই পরিলক্ষিত হয়। অনেক নারী ভোটার এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছেন বলে জানান। তাসলিমা জাহান নামের একজন ভোটার বলেন, “অনেক বছর ধরে ভোটার হয়েছি, কিন্তু এবারই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। গতকাল থেকেই আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। এখানে এসে দেখলাম, সবার মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ আর উৎসব কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবারে সাতজন ভোটার। এতদিন ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। যাদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাদের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে।”
মধ্যবয়সী মুসলিমা বেগম নামের আরেক ভোটার ভোটদানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আজ ভোট দিতে এসে মনে হচ্ছে যেন কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। সবার মধ্যে কী আনন্দ! সবাই হাসিখুশি, একে অপরের সাথে মন খুলে কথা বলছে।” তিনি অতীতের ভোটগ্রহণের দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, “আগে ভোটের সময় কেমন যেন একটা ভয় কাজ করতো, মনে হতো এই বুঝি খারাপ কিছু ঘটে যাবে। কিন্তু এখন সেই আতঙ্ক নেই। আমরা এমন ভোটাধিকারই চেয়েছিলাম।”
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এম. এ. কাইয়ুম-এর মধ্যে। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ থেকে মো. আরিফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন থেকে শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদসহ আরও আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১১ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩৯,০৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,২২,৮৭৭ জন এবং নারী ভোটার ২,১৬,১৯৮ জন। এছাড়াও, এই আসনে তিনজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























