## গণতন্ত্রের উৎসবে নাগরিকের বয়ান: এক সাংবাদিকের ভোটদানের দিনলিপি
ঢাকা, [তারিখ]: একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন সাজ সাজ রব, তখন এক সাধারণ নাগরিক হিসেবে ভোটদানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আমাদের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থাপিত ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনের ৩৭ নম্বর কেন্দ্রে তার এই দিনলিপি গণতন্ত্রের এক সজীব চিত্র অঙ্কন করেছে।
ভোর থেকে কেন্দ্রে উপস্থিতি ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ:
সকাল ৭টার কিছু পরেই সাংবাদিক কেন্দ্রে পৌঁছান। ততক্ষণে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। পুরুষ ও নারী উভয়েরই উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে ভোটার স্লিপ বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তবে, ভোটগ্রহণ শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের কিছু পরেই মূল ফটক খোলা হয়।
ছবি তোলা নিয়ে প্রাথমিক বাধা এবং সমাধান:
কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে সাংবাদিক প্রথমে ছবি তোলার অনুমতি নিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ ছিল যে কেন্দ্রে ছবি তোলা নিষেধ। তবে, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটকক্ষের বাইরে লাইনের ছবি তোলা বা সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব, যা পরে অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে নিশ্চিত করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে ভোটকক্ষের ভেতরেও ছবি তোলার অনুমতি মেলে, তবে সেখানেও কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও পর্যবেক্ষণ:
সাংবাদিক লক্ষ্য করেন যে প্রতিটি ভোটকক্ষে একবারে মাত্র একজন ভোটারকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভোটগ্রহণে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয় এবং বাইরে লাইনে অপেক্ষমাণ ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একজন ভোটারের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৩-৪ মিনিট সময় লাগছিল। প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ধীরগতির কারণ হতে পারে একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই, ব্যালট পেপার বিতরণ এবং বুথে গিয়ে ভোটদান। কিছু বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হতেও বিলম্ব হয়, যার কারণ হিসেবে নির্বাচন এজেন্টদের দ্বারা ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করার কথা বলা হয়।
নাগরিক দায়িত্ব পালন ও নিজস্ব ভোটদান প্রক্রিয়া:
সাংবাদিক নিজেও ৩৭ নম্বর কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। তবে, তার সিরিয়াল নম্বর ২ নম্বর বুথে পড়ে। নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে তিনি ২ নম্বর বুথের সামনে যান। সেখানে আনসার সদস্য তাকে জানান যে বুথে একজন ভোটার থাকায় তিনি প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তিনি সহজেই নিজের এনআইডি নম্বর দিয়ে ভোটের আইডি নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর জেনে নিয়েছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর, পোলিং অফিসার তার ফোন জমা রাখতে বলেন। এরপর, দুটি ব্যালট পেপারের জন্য দুটি মুড়িতে স্বাক্ষর করে তিনি গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন। কালি দিয়ে সিল মেরে ভাঁজ করে ব্যালট পেপার দুটি নির্দিষ্ট বাক্সে ফেলার পর তিনি বেরিয়ে আসেন।
গণতন্ত্রের উৎসবে আনন্দ ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা:
দীর্ঘদিন পর মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাংবাদিক অত্যন্ত আনন্দিত হন। তিনি বলেন, “৬০ বছরেও নিজেকে তরুণ মনে হচ্ছিল।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশ গণতন্ত্রের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
প্রতিক্রিয়া ও অফিসের পথে:
ভোটদান শেষে, কেন্দ্রের বাইরে লাইনের ছবি তোলার সময় এবার আর পুলিশ কর্মকর্তার কোনো বাধা পাননি। তবে, একজন এএসআইয়ের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা জানান।
রিকশায় করে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অফিসের গাড়িতে করে কারওয়ান বাজার অফিসে পৌঁছাতে প্রায় সোয়া ৮টা বাজে। ততক্ষণে অফিসের অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া বিভাগের সহকর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। রাত ২টায় বাসায় ফিরে ভোর ৬টায় উঠে যখন তিনি দেখেন যে সারা দেশ শান্তিপূর্ণভাবে রয়েছে, তখন তার মন আশায় ভরে ওঠে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রিপোর্টারের নাম 























