ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা-৮ আসনে ভোটগ্রহণ: নতুন ভোটারদের উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশের ন্যায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসা নতুন ভোটারদের চোখে-মুখে ছিল এক অনন্য প্রাপ্তির আনন্দ।

প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সানজিদা আক্তার নুরু বলেন, “জীবনের প্রথম ভোটটি পরিবারের সঙ্গে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট দিয়েছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি আশাবাদী।” একই কেন্দ্রে ভোট দেওয়া আরেক নতুন ভোটার অহনা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “নির্বাচনটি অনেকটা উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। আগে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি, এবার সুষ্ঠু পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে দারুণ লাগছে।”

দীর্ঘদিন পর নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররাও। তাদেরই একজন মমতাজ বেগম বিউটি। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে এমন সুষ্ঠু পরিবেশ দেখিনি। আগে ভোটের দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত, কিন্তু এবার কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া।” অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তনিমা আহমেদ তার শৈশবের এলাকায় ভোট দিতে এসে বলেন, “ভোটের উৎসব দেখতে সকাল সকালই কেন্দ্রে চলে এসেছি। অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম।”

রাজধানীর মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। প্রচারণার শুরু থেকেই এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আসনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫১ জন। এছাড়া একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। আসনটিতে মোট ১০৮টি কেন্দ্রে ৫২৭টি ভোটকক্ষের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও লক্ষ্যণীয়। প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার্থে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনে মোট ৮ হাজার ৯৮২ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ হাজার ৯৫৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ২৬ জন নারী। সব মিলিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা-৮ আসনে ভোটগ্রহণ: নতুন ভোটারদের উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সারাদেশের ন্যায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসা নতুন ভোটারদের চোখে-মুখে ছিল এক অনন্য প্রাপ্তির আনন্দ।

প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সানজিদা আক্তার নুরু বলেন, “জীবনের প্রথম ভোটটি পরিবারের সঙ্গে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট দিয়েছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি আশাবাদী।” একই কেন্দ্রে ভোট দেওয়া আরেক নতুন ভোটার অহনা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “নির্বাচনটি অনেকটা উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। আগে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি, এবার সুষ্ঠু পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে দারুণ লাগছে।”

দীর্ঘদিন পর নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররাও। তাদেরই একজন মমতাজ বেগম বিউটি। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে এমন সুষ্ঠু পরিবেশ দেখিনি। আগে ভোটের দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত, কিন্তু এবার কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া।” অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তনিমা আহমেদ তার শৈশবের এলাকায় ভোট দিতে এসে বলেন, “ভোটের উৎসব দেখতে সকাল সকালই কেন্দ্রে চলে এসেছি। অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম।”

রাজধানীর মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। প্রচারণার শুরু থেকেই এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আসনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫১ জন। এছাড়া একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। আসনটিতে মোট ১০৮টি কেন্দ্রে ৫২৭টি ভোটকক্ষের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও লক্ষ্যণীয়। প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার্থে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনে মোট ৮ হাজার ৯৮২ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ হাজার ৯৫৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ২৬ জন নারী। সব মিলিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে।