ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে চলছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দ্বৈত ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা রঙের ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যুগপৎভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচনের আয়োজন করা হলো। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত থাকায় আজ ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন চলছে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পালা। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করে একই সঙ্গে গণনা করা হবে। গণনার কাজ শেষ হলে দুই নির্বাচনের ফলাফলও একযোগে ঘোষণা করবে কমিশন। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে চলছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

আপডেট সময় : ০৭:১৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দ্বৈত ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা রঙের ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যুগপৎভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচনের আয়োজন করা হলো। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত থাকায় আজ ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন চলছে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পালা। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করে একই সঙ্গে গণনা করা হবে। গণনার কাজ শেষ হলে দুই নির্বাচনের ফলাফলও একযোগে ঘোষণা করবে কমিশন। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।