ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-১৪ উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, প্রিসাইডিং অফিসারের কড়াকড়ি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিরপুরের ইউসেফ ইসমাইল টেকনিক্যাল স্কুলের ১ নম্বর কেন্দ্রে (মহিলা ভোটকেন্দ্র) এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে আটকে দেন। প্রিসাইডিং অফিসারের দোহাই দিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রে কোনো সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার নেই। এমনকি পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে দীর্ঘক্ষণ গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মিজানুর রহমান গেটে আসলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেন তিনি। প্রিসাইডিং অফিসার দাবি করেন, কেন্দ্রের ভেতরে ক্যামেরা ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই এবং সাংবাদিকরা ভেতরে ঢুকলে ছবি তুলে পরিবেশ নষ্ট করতে পারেন। ইসি থেকে প্রাপ্ত সাংবাদিক পাস ও নির্দেশনাবলী দেখালে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “ভোটের তথ্য লাগলে নিন, কিন্তু ভেতরে ক্যামেরা নেওয়া যাবে না।”

কেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রিসাইডিং অফিসার জানান, এটি একটি নারী ভোটকেন্দ্র যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৪ জন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভোটগ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ নম্বর কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। নারী ভোটাররা সরাসরি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারলেও পুরুষ কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৮৫ জন।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ১০৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৬৩০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। পুরো আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের ৮৯৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপি মনোনীত সানজিদা ইসলাম তুলি, জামায়াত মনোনীত মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মো. সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

ঢাকা-১৪ উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, প্রিসাইডিং অফিসারের কড়াকড়ি

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিরপুরের ইউসেফ ইসমাইল টেকনিক্যাল স্কুলের ১ নম্বর কেন্দ্রে (মহিলা ভোটকেন্দ্র) এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে আটকে দেন। প্রিসাইডিং অফিসারের দোহাই দিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রে কোনো সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার নেই। এমনকি পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে দীর্ঘক্ষণ গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মিজানুর রহমান গেটে আসলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেন তিনি। প্রিসাইডিং অফিসার দাবি করেন, কেন্দ্রের ভেতরে ক্যামেরা ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই এবং সাংবাদিকরা ভেতরে ঢুকলে ছবি তুলে পরিবেশ নষ্ট করতে পারেন। ইসি থেকে প্রাপ্ত সাংবাদিক পাস ও নির্দেশনাবলী দেখালে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “ভোটের তথ্য লাগলে নিন, কিন্তু ভেতরে ক্যামেরা নেওয়া যাবে না।”

কেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রিসাইডিং অফিসার জানান, এটি একটি নারী ভোটকেন্দ্র যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৪ জন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভোটগ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ নম্বর কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। নারী ভোটাররা সরাসরি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারলেও পুরুষ কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৮৫ জন।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ১০৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৬৩০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। পুরো আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের ৮৯৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপি মনোনীত সানজিদা ইসলাম তুলি, জামায়াত মনোনীত মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মো. সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী।