ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: শাহীনবাগে দীর্ঘ লাইনেও মুখে হাসি, নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন সব বয়সী মানুষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজধানী ঢাকার শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোনো ধরনের চাপ কিংবা প্রভাব বিস্তার ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।

সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন সব বয়সী মানুষ। এদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিম নাখালপাড়া রেলগেট এলাকার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী পেয়ারা বেগম। পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে কেন্দ্রে তাকে নেকাব খোলার অনুরোধ জানানো হলে তিনি হাসিমুখেই তা পালন করেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। বিগত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতার চেয়ে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো ধরনের পীড়াপীড়ি ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি দারুণ তৃপ্ত।

শুধু পেয়ারা বেগমই নন, তার পরিবারের ৮৮ বছর বয়সী স্বামী তোফায়েল আহমেদ, মেয়ে ফারহানা এবং নাতি-নাতনিরাও একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন। ফারহানা তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের পরিবেশ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আগামীতেও যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের এমন সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে।”

প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ২২ বছর বয়সী জেসমিন বলেন, “প্রথম ভোট দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। পরিবেশ খুব ভালো ছিল।” অন্যদিকে, ৮৬ বছর বয়সী মনোরঞ্জনও কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ৭১ বছর বয়সী নূর আলম জানান, গত তিনটি নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশের আশঙ্কায় তিনি ভোট দিতে আসেননি। তবে এবার সুষ্ঠু পরিবেশের কথা শুনে তিনি কেন্দ্রে এসেছেন। দীর্ঘ ৩০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তির ছাপ ছিল না।

নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, সিভিল এভিয়েশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে মোট ১০টি বুথ রয়েছে। ২৮ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ১০.৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। একইভাবে ২৯ নম্বর কেন্দ্রে ১২ শতাংশ এবং ৩০ নম্বর কেন্দ্রে ৮.৪৭ শতাংশ ভোট পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রিসাইডিং অফিসারদের মতে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে বডি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এজেন্টরাও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটারদের ভোট প্রদানে সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে শাহীনবাগের এই কেন্দ্রটিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: শাহীনবাগে দীর্ঘ লাইনেও মুখে হাসি, নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন সব বয়সী মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজধানী ঢাকার শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোনো ধরনের চাপ কিংবা প্রভাব বিস্তার ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।

সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন সব বয়সী মানুষ। এদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিম নাখালপাড়া রেলগেট এলাকার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী পেয়ারা বেগম। পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে কেন্দ্রে তাকে নেকাব খোলার অনুরোধ জানানো হলে তিনি হাসিমুখেই তা পালন করেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। বিগত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতার চেয়ে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো ধরনের পীড়াপীড়ি ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি দারুণ তৃপ্ত।

শুধু পেয়ারা বেগমই নন, তার পরিবারের ৮৮ বছর বয়সী স্বামী তোফায়েল আহমেদ, মেয়ে ফারহানা এবং নাতি-নাতনিরাও একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন। ফারহানা তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের পরিবেশ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আগামীতেও যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের এমন সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে।”

প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ২২ বছর বয়সী জেসমিন বলেন, “প্রথম ভোট দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। পরিবেশ খুব ভালো ছিল।” অন্যদিকে, ৮৬ বছর বয়সী মনোরঞ্জনও কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ৭১ বছর বয়সী নূর আলম জানান, গত তিনটি নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশের আশঙ্কায় তিনি ভোট দিতে আসেননি। তবে এবার সুষ্ঠু পরিবেশের কথা শুনে তিনি কেন্দ্রে এসেছেন। দীর্ঘ ৩০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তির ছাপ ছিল না।

নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, সিভিল এভিয়েশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে মোট ১০টি বুথ রয়েছে। ২৮ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ১০.৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। একইভাবে ২৯ নম্বর কেন্দ্রে ১২ শতাংশ এবং ৩০ নম্বর কেন্দ্রে ৮.৪৭ শতাংশ ভোট পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রিসাইডিং অফিসারদের মতে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে বডি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এজেন্টরাও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটারদের ভোট প্রদানে সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে শাহীনবাগের এই কেন্দ্রটিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে।