ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পটিয়ায় নির্বাচনী কেন্দ্রের বাইরে মারধর: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থক আহত, সেনাবাহিনী দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া উপজেলার পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুহান (২১) ও মো. ইব্রাহিম (৩৮) নামের দুই ব্যক্তি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে সেনাবাহিনী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দেয়। পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটলে রুহান ও ইব্রাহিমসহ অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রুহান (২১) ও মো. ইব্রাহিম (৩৮) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তৃতীয় আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কেলিশহর পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। কেন্দ্রের ভেতরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে এবং এর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহজাহান মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে।

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম জানান, পটিয়ায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কেলিশহরের এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট মো. তাহমিদ গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং উত্তেজিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক ছিল এবং এর ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। লেফটেন্যান্ট তাহমিদ আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের তিন কর্মীকে মারধর করেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উপজেলার মোট ১১৩টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা ১১টা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভোটর উপস্থিতি ২০-২৫ শতাংশের মতো। পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে টহল দল, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাও ‘হত্যার টার্গেট’: ইসরায়েলের বিস্ফোরক হুমকি

পটিয়ায় নির্বাচনী কেন্দ্রের বাইরে মারধর: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থক আহত, সেনাবাহিনী দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া উপজেলার পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুহান (২১) ও মো. ইব্রাহিম (৩৮) নামের দুই ব্যক্তি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে সেনাবাহিনী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দেয়। পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটলে রুহান ও ইব্রাহিমসহ অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রুহান (২১) ও মো. ইব্রাহিম (৩৮) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তৃতীয় আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কেলিশহর পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। কেন্দ্রের ভেতরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে এবং এর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহজাহান মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে।

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম জানান, পটিয়ায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কেলিশহরের এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট মো. তাহমিদ গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং উত্তেজিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক ছিল এবং এর ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। লেফটেন্যান্ট তাহমিদ আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের তিন কর্মীকে মারধর করেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উপজেলার মোট ১১৩টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা ১১টা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভোটর উপস্থিতি ২০-২৫ শতাংশের মতো। পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে টহল দল, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।