ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ধর্ষণ-হত্যা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি, ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার প্রতিবাদ

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, হত্যা এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা এসব অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অবসানের দাবি জানান।

সমাবেশে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া হোমায়রা জেবু বলেন, “আমাদের আজকের এই প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ধর্ষণমুক্ত একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী ক্ষমতায়নের কথা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে না, বরং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটবে। সমাজে বিদ্যমান পদ্ধতিগত বাধাগুলো দূর করা না গেলে নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা অসম্ভব।” তিনি অবিলম্বে ধর্ষণ ও হত্যাসহ সকল প্রকার সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

একই বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন আবদুল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “নারীদের প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আমরা আরেকটি বীভৎস ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান না ঘটলে এই পাশবিকতা থামানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ধর্ষণ রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মো. শেখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, “কেবল অপরাধের খবর নয়, অপরাধীর কঠোর শাস্তির খবরও গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না। দেশে আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগের অভাব রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে প্রায়শই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, যেখানে এক দল অপরাধীকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। সকল রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের কর্মীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা এবং কোনো অপরাধীকে আশ্রয় না দেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা উচিত, যেখানে শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট এবং এনজিও প্রতিনিধিদের রাখা হবে। এই কমিশন ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো নিয়ে গবেষণা করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।” এছাড়া, স্কুল, কলেজ এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও জেন্ডার ট্রেনিং বা নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার এবং ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সহিংসতা সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তদবিরের অভিযোগ তুলে হত্যা মামলার রায় স্থগিত রাখলেন বিচারক

ধর্ষণ-হত্যা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি, ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৪:২০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, হত্যা এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা এসব অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অবসানের দাবি জানান।

সমাবেশে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া হোমায়রা জেবু বলেন, “আমাদের আজকের এই প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ধর্ষণমুক্ত একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী ক্ষমতায়নের কথা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে না, বরং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটবে। সমাজে বিদ্যমান পদ্ধতিগত বাধাগুলো দূর করা না গেলে নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা অসম্ভব।” তিনি অবিলম্বে ধর্ষণ ও হত্যাসহ সকল প্রকার সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

একই বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন আবদুল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “নারীদের প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আমরা আরেকটি বীভৎস ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান না ঘটলে এই পাশবিকতা থামানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ধর্ষণ রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মো. শেখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, “কেবল অপরাধের খবর নয়, অপরাধীর কঠোর শাস্তির খবরও গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না। দেশে আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগের অভাব রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে প্রায়শই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, যেখানে এক দল অপরাধীকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। সকল রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের কর্মীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা এবং কোনো অপরাধীকে আশ্রয় না দেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা উচিত, যেখানে শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট এবং এনজিও প্রতিনিধিদের রাখা হবে। এই কমিশন ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো নিয়ে গবেষণা করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।” এছাড়া, স্কুল, কলেজ এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও জেন্ডার ট্রেনিং বা নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার এবং ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সহিংসতা সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।