ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি নামের মহিলা দলের এক নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশনের একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) সোনাগাজী উপজেলার কাশ্মির বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে ও আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী। লিপি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।

নিহতের স্বজনের সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মেয়েকে পার্শ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি। বুধবার তার মোবাইলে কল করে তাকে না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে লাগানো। পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় লিপির লাশ ঝুলছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম। পাঁচ দিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি। আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল। তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনও ঝামেলা ছিল না। কেন সে এমন করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

ফেনী জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই। সব কর্মসূচিতে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল। সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না। যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয়ই কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।

ফেনী মডেল থানা এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল। গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএনজিএ সভাপতি পদে আর্জেন্টিনার সমর্থন চাইলেন ড. খলিলুর রহমান

মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি নামের মহিলা দলের এক নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশনের একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) সোনাগাজী উপজেলার কাশ্মির বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে ও আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী। লিপি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।

নিহতের স্বজনের সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মেয়েকে পার্শ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি। বুধবার তার মোবাইলে কল করে তাকে না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে লাগানো। পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় লিপির লাশ ঝুলছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম। পাঁচ দিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি। আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল। তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনও ঝামেলা ছিল না। কেন সে এমন করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

ফেনী জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই। সব কর্মসূচিতে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল। সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না। যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয়ই কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।

ফেনী মডেল থানা এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল। গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।