জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে যখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সীমান্তপথে মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে মাদকের অবাধ প্রবাহে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নজরদারিতে শিথিলতা অথবা ব্যস্ততার সুযোগ নিচ্ছে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা, যার ফলে নিত্যনতুন মাদকের চালান ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও নজরদারিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক চোরাচালান চক্র। সীমান্ত, মহাসড়ক ও নদীপথের নজরদারির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে প্রতিদিন ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান, যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আনাচে-কানাচে।
লালমনিরহাটের প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। জেলার পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। মরণনেশা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সব শ্রেণির মানুষ। উঠতি বয়সের যুবসমাজ, স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এতে করে উঠতি বয়সি তরুণদের মধ্যে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবক মহলে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ প্রজন্ম ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, মদ সেবনের উদ্দেশ্যে সীমান্তে ছুটে আসে। রাত নামলেই সীমান্তের নোম্যানসল্যান্ড চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। পাটগ্রামের জোংরা, জগৎবের, নাজির গোমানি, বুড়িমারী, সানিয়াগান; হাতীবান্ধার ভুটিমঙ্গল, বড়খাতা, গোতামারী, দৈই খাওয়া, জাওরানি, বনচৌকি, ভেলাগুড়ি, পূর্বকদমা; কালীগঞ্জের শিয়ালখাওয়া, গোড়ল, চন্দ্রপুর, চামটা, চাপারহাট; আদিতমারীর দুর্গাপুর, ভেলাবাড়ী, মোগলহাট, চওড়াটারী; এবং সদর উপজেলার কুলাঘাট, শীবেরকুটি, মোগলহাট, শালমারী, ফলিমারীর চরসহ অন্তত অর্ধশত স্পটকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাচালান সিন্ডিকেট।
ভারত থেকে আসা এসব মাদক প্রথমে সীমান্তের গ্রামগুলোতে জড়ো করা হয়। এরপর সুবিধাজনক সময়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছোট-বড় মাদকের চালানসহ বহনকারীদের আটক করতে সক্ষম হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ কারণেই মাদক নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ যেকোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’ এই সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবি তিস্তা-টু এর সদস্যরা।
রিপোর্টারের নাম 




















