দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন জাতীয় নারী শুটার কামরুন নাহার কলি। বাংলাদেশ স্পোর্ট শুটিং ফেডারেশন গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, কলির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর দেওয়া জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই দিনে আরেক জাতীয় শুটার পিয়াস হোসেনকেও সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কলিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই চিঠির জবাব দিলেও ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে তাঁর ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এদিকে, পিয়াস হোসেনকে ক্যাম্পের বাইরে থাকা সত্ত্বেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন শাস্তি দেওয়া হলো, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ অভিযুক্ত শুটাররা। কামরুন নাহার কলি এর আগে শুটিং ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সাজ্জাদকে ফেডারেশনের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কলির দাবি, সেই ঘটনার জেরে প্রতিহিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বৃত্তিপ্রাপ্ত একজন উদীয়মান শুটারের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, কলির নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌবাহিনী যদি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে, তবেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
শাস্তি পাওয়া অপর শুটার পিয়াস হোসেনের দাবি, কলির আনা ন্যায়সঙ্গত অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির প্রমাণ মিলেছে। আমি শুধু কলির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, আর সেটাই আমার অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।”
এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। দেশের শুটিং অঙ্গনে এই অস্থিরতা ও মেধাবী শুটারদের ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























