জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় অনিরাপদ হয়ে পড়বে—এমন ধারণাকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছেন বোয়ালখালী হিন্দু পরিষদের নেতা ভুটান বিশ্বাস। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়ের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বিপদের বিশ্বস্ত সাথী।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভুটান বিশ্বাস বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে আমরা বিপদে পড়ব—এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। বরং তাদের হাতেই আমরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ, যা তারা বারবার প্রমাণ করেছে। আমরা চাই তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসুক।”
চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের প্রশংসা করে এই হিন্দু নেতা আরও বলেন, ডা. নাছের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও অমায়িক মানুষ। বর্তমান সময়ে তার মতো ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাই নন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া দুই পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থেকে ডা. নাছেরের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ডা. নাছের যখন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখন আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তার মতো সৎ ও যোগ্য নেতার এই আসনে খুব প্রয়োজন। জনগণের দাবির মুখে তিনি আবারও নির্বাচনি মাঠে ফিরেছেন। আমাদের বিশ্বাস, তার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
হিন্দু পরিষদের আরেক নেতা পংকজ শীল ডা. আবু নাছেরকে এই জনপদের ‘মানবিক বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, অতীতে অনেকেই এমপি-মন্ত্রী হয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলালেও সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন করেননি। তারা ছিলেন কেবল কাগজের নেতা। কিন্তু ডা. নাছের মানুষের হৃদয়ের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে তার বিজয় সুনিশ্চিত বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ মাহবুবুল হাসান মাছুমের বড় ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বিআইটিআইডি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. বখতিয়ার আলম, হিন্দু পরিষদ নেতা সুজন ভট্টাচার্য, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা ডা. আবু নাছেরের ইশতেহারকে জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে তাকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
রিপোর্টারের নাম 
























