ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আসামে উচ্ছেদ-আতঙ্কে মিঞাঁ মুসলমানরা: ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কা, মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসামে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানের পর এবার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন হাজার হাজার মিঞাঁ মুসলমান। নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের নতুন ঠিকানা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির বা অন্যের জমিতে তৈরি প্লাস্টিকের ছাউনি। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার নোটিশ পেয়ে আরও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার লাগাতার বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্যে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

নগাঁও জেলার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব ফাজিলা খাতুনের চোখে এখন ঘুম নেই। “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে তো আমাদের নাগরিকত্বই শেষ হয়ে যাবে,” দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছিলেন তিনি। মাস দেড়েক আগে লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৩৩১টি পরিবারের মধ্যে তার পরিবারও একটি। সরকারের দাবি, বনের জমি জবরদখল করে গড়ে উঠেছিল এসব গ্রাম। গত ২৯ নভেম্বর থেকে টানা দুই দিন ধরে চলা উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ফাজিলা খাতুনের মতো হাজারো মানুষ এখন প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে তৈরি ছোট ছোট বস্তির ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন নতুন ঠিকানা খুঁজে নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারকে শুনানির নোটিশ পাঠাচ্ছে। আসামের এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের মতো অন্যান্য রাজ্যের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন। ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে অনেক পরিবারের বিধানসভা কেন্দ্রও বদলে গেছে, ফলে তাদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে হচ্ছে।

ফাজিলা খাতুন জানান, নোটিশ পাওয়ার পর তিনি তার ছেলেদের নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গেছেন এবং সব নথি জমা দিয়েছেন। তিন-চার বার শুনানিতেও অংশ নিয়েছেন। “না গেলে তো ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হতো,” বলছিলেন তিনি। তবুও তার মনে ভয় কাটছে না, “নাগরিকত্ব না থাকলে কী হবে? কেউ কেউ বলছেন আমাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কার কাছে যাব, কী করব কিছুই ভাবতে পারছি না।”

একই রকম অভিজ্ঞতা তার প্রতিবেশী ৫১ বছর বয়সী মিনারা বেগমের। তিনি বলেন, “যে জমিতে ৪০ বছর ধরে বসবাস করছিলাম, সে জমি নাকি সরকারের, তাই আমাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। এখন অন্যের জমিতে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে থাকতে হচ্ছে। এখন আবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর বহুবার শুনানিতে গেছি, সব নথি জমা করেছি। কিন্তু আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।” আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আসামের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা, যা নিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘মিঞাঁ’ বলে কটূক্তি করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাম্প্রতিক সময়ে এই মিঞাঁ মুসলমানদের লক্ষ্য করে লাগাতার আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে চলেছেন। গত বছর ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘোষণার পর ২০ নভেম্বর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “যতদিন আমি মুখ্যমন্ত্রী আছি, কোনো মিঞাঁ শান্তিতে থাকতে পারবেন না। এটা নিশ্চিত। যে মিঞারা সন্দেহভাজন নাগরিক, তাদের হয়রানি করাই আমার কাজ। আমাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেই মিঞাঁ সম্প্রদায় শান্তি পেতে পারে।”

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তার নির্বাচনী কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তিনি মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে একপ্রকার লড়াই শুরু করেন। এ বছর জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “যে যেভাবে পারবেন, মিঞাঁদের হেনস্থা করুন। আপনারাও তাদের কষ্ট দিন। রিকশার ভাড়া যদি পাঁচ টাকা চায়, তাহলে আপনি চার টাকা দিন। হয়রানি হলেই তারা আসাম থেকে চলে যাবে।” তিনি সেদিন আরও যোগ করেন, “মিঞাঁদের বিষয়টা কোনো ইস্যু নয়। হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বিজেপি সরাসরি মিঞাঁদের বিরুদ্ধে। এখন আমি সবাইকে উৎসাহিত করছি যাতে মিঞাঁদের হেনস্থা করা হয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিনারা বেগম। তার প্রশ্ন, “কেন আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে? আসাম সরকার কী করতে চাইছে? আমরা তো এদেশেরই নাগরিক। মুসলমান হয়ে আমরা কি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি? তাই যদি হয়, সরকার আমাদের একেবারে মেরে কেন ফেলছে না? এত হেনস্থার থেকে ভালো হতো যদি আমাদের সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলত।”

যদিও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন। হোজাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বিদ্যুৎ বিকাশ ভগবতী বলেন, “বিশেষ সংশোধন একটি আইনি প্রক্রিয়া। যাদের এখানে বাড়ি নেই এবং স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাদের নাম বাদ যাবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে যে কোনো নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে তা মোটেও নয়। প্রত্যেক যোগ্য নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই বিশেষ সংশোধন করা হচ্ছে।”

হোজাই জেলায় উচ্ছেদ অভিযানের কারণে যাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার জানান, যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখল করা ১৭০০ এরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারের একটি বড়ো অংশ ইতিমধ্যে তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য ফর্ম নম্বর চার পূরণ করে জমা দিয়েছে। এছাড়া তারা যে থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন, সেখানকার ঠিকানা দিয়ে তারা নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিভির পর্দায় আজকের ফুটবল: মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

আসামে উচ্ছেদ-আতঙ্কে মিঞাঁ মুসলমানরা: ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কা, মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:৩১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসামে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানের পর এবার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন হাজার হাজার মিঞাঁ মুসলমান। নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের নতুন ঠিকানা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির বা অন্যের জমিতে তৈরি প্লাস্টিকের ছাউনি। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার নোটিশ পেয়ে আরও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার লাগাতার বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্যে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

নগাঁও জেলার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব ফাজিলা খাতুনের চোখে এখন ঘুম নেই। “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে তো আমাদের নাগরিকত্বই শেষ হয়ে যাবে,” দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছিলেন তিনি। মাস দেড়েক আগে লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৩৩১টি পরিবারের মধ্যে তার পরিবারও একটি। সরকারের দাবি, বনের জমি জবরদখল করে গড়ে উঠেছিল এসব গ্রাম। গত ২৯ নভেম্বর থেকে টানা দুই দিন ধরে চলা উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ফাজিলা খাতুনের মতো হাজারো মানুষ এখন প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে তৈরি ছোট ছোট বস্তির ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন নতুন ঠিকানা খুঁজে নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারকে শুনানির নোটিশ পাঠাচ্ছে। আসামের এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের মতো অন্যান্য রাজ্যের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন। ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে অনেক পরিবারের বিধানসভা কেন্দ্রও বদলে গেছে, ফলে তাদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে হচ্ছে।

ফাজিলা খাতুন জানান, নোটিশ পাওয়ার পর তিনি তার ছেলেদের নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গেছেন এবং সব নথি জমা দিয়েছেন। তিন-চার বার শুনানিতেও অংশ নিয়েছেন। “না গেলে তো ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হতো,” বলছিলেন তিনি। তবুও তার মনে ভয় কাটছে না, “নাগরিকত্ব না থাকলে কী হবে? কেউ কেউ বলছেন আমাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কার কাছে যাব, কী করব কিছুই ভাবতে পারছি না।”

একই রকম অভিজ্ঞতা তার প্রতিবেশী ৫১ বছর বয়সী মিনারা বেগমের। তিনি বলেন, “যে জমিতে ৪০ বছর ধরে বসবাস করছিলাম, সে জমি নাকি সরকারের, তাই আমাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। এখন অন্যের জমিতে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে থাকতে হচ্ছে। এখন আবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর বহুবার শুনানিতে গেছি, সব নথি জমা করেছি। কিন্তু আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।” আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আসামের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা, যা নিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘মিঞাঁ’ বলে কটূক্তি করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাম্প্রতিক সময়ে এই মিঞাঁ মুসলমানদের লক্ষ্য করে লাগাতার আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে চলেছেন। গত বছর ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘোষণার পর ২০ নভেম্বর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “যতদিন আমি মুখ্যমন্ত্রী আছি, কোনো মিঞাঁ শান্তিতে থাকতে পারবেন না। এটা নিশ্চিত। যে মিঞারা সন্দেহভাজন নাগরিক, তাদের হয়রানি করাই আমার কাজ। আমাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেই মিঞাঁ সম্প্রদায় শান্তি পেতে পারে।”

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তার নির্বাচনী কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তিনি মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে একপ্রকার লড়াই শুরু করেন। এ বছর জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “যে যেভাবে পারবেন, মিঞাঁদের হেনস্থা করুন। আপনারাও তাদের কষ্ট দিন। রিকশার ভাড়া যদি পাঁচ টাকা চায়, তাহলে আপনি চার টাকা দিন। হয়রানি হলেই তারা আসাম থেকে চলে যাবে।” তিনি সেদিন আরও যোগ করেন, “মিঞাঁদের বিষয়টা কোনো ইস্যু নয়। হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বিজেপি সরাসরি মিঞাঁদের বিরুদ্ধে। এখন আমি সবাইকে উৎসাহিত করছি যাতে মিঞাঁদের হেনস্থা করা হয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিনারা বেগম। তার প্রশ্ন, “কেন আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে? আসাম সরকার কী করতে চাইছে? আমরা তো এদেশেরই নাগরিক। মুসলমান হয়ে আমরা কি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি? তাই যদি হয়, সরকার আমাদের একেবারে মেরে কেন ফেলছে না? এত হেনস্থার থেকে ভালো হতো যদি আমাদের সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলত।”

যদিও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন। হোজাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বিদ্যুৎ বিকাশ ভগবতী বলেন, “বিশেষ সংশোধন একটি আইনি প্রক্রিয়া। যাদের এখানে বাড়ি নেই এবং স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাদের নাম বাদ যাবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে যে কোনো নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে তা মোটেও নয়। প্রত্যেক যোগ্য নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই বিশেষ সংশোধন করা হচ্ছে।”

হোজাই জেলায় উচ্ছেদ অভিযানের কারণে যাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার জানান, যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখল করা ১৭০০ এরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারের একটি বড়ো অংশ ইতিমধ্যে তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য ফর্ম নম্বর চার পূরণ করে জমা দিয়েছে। এছাড়া তারা যে থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন, সেখানকার ঠিকানা দিয়ে তারা নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পারেন।