ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার গভীর সংকটে: ম্যান্ডেলসন বিতর্কে পদত্যাগের দাবি, ঘনিষ্ঠ দুই কর্মকর্তার ইস্তফা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাবেক এই মন্ত্রীর সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। গত দু’দিনে তার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

লর্ড ম্যান্ডেলসন, যিনি একসময় যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, সম্প্রতি মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের সাথে তার পুরনো সম্পর্কের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে আসেন। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের শেষের দিকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার স্টারমারের সিদ্ধান্ত সমালোচনার ঝড় তোলে। যদিও গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয় এবং ম্যান্ডেলসনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, বিতর্ক থামেনি। পরবর্তীতে তিনি লেবার পার্টি এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন।

স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তার মতে, লেবার সরকার বিভিন্ন ইতিবাচক কাজ করলেও চলমান এই বিতর্ক সেগুলোকে আড়াল করে দিচ্ছে। সারোয়ার জোর দিয়ে বলেন, এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ডাউনিং স্ট্রিটে নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য।

এই গভীর সংকটের মধ্যেই স্টারমারের ঘনিষ্ঠ দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগপ্রধান টিম অ্যালান এবং তার একদিন আগে রবিবার চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের বিষয়ে ভুল পরামর্শ দেওয়ার দায় স্বীকার করেই তারা ইস্তফা দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এমন চাপ সত্ত্বেও স্টারমারের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, রাজনীতি জনকল্যাণের একটি কার্যকর হাতিয়ার, আর তা প্রমাণ করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে দলীয় এমপিদের সঙ্গেও বৈঠকে তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরে অসন্তোষ থাকলেও, মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতারা স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশী অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে, তিনি সরকার পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের দাবি উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করার পর তাকে দেওয়া সরকারি অর্থসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিভির পর্দায় আজকের ফুটবল: মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার গভীর সংকটে: ম্যান্ডেলসন বিতর্কে পদত্যাগের দাবি, ঘনিষ্ঠ দুই কর্মকর্তার ইস্তফা

আপডেট সময় : ০২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাবেক এই মন্ত্রীর সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। গত দু’দিনে তার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

লর্ড ম্যান্ডেলসন, যিনি একসময় যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, সম্প্রতি মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের সাথে তার পুরনো সম্পর্কের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে আসেন। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের শেষের দিকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার স্টারমারের সিদ্ধান্ত সমালোচনার ঝড় তোলে। যদিও গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয় এবং ম্যান্ডেলসনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, বিতর্ক থামেনি। পরবর্তীতে তিনি লেবার পার্টি এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন।

স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তার মতে, লেবার সরকার বিভিন্ন ইতিবাচক কাজ করলেও চলমান এই বিতর্ক সেগুলোকে আড়াল করে দিচ্ছে। সারোয়ার জোর দিয়ে বলেন, এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ডাউনিং স্ট্রিটে নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য।

এই গভীর সংকটের মধ্যেই স্টারমারের ঘনিষ্ঠ দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগপ্রধান টিম অ্যালান এবং তার একদিন আগে রবিবার চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের বিষয়ে ভুল পরামর্শ দেওয়ার দায় স্বীকার করেই তারা ইস্তফা দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এমন চাপ সত্ত্বেও স্টারমারের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, রাজনীতি জনকল্যাণের একটি কার্যকর হাতিয়ার, আর তা প্রমাণ করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে দলীয় এমপিদের সঙ্গেও বৈঠকে তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরে অসন্তোষ থাকলেও, মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতারা স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশী অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে, তিনি সরকার পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের দাবি উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করার পর তাকে দেওয়া সরকারি অর্থসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে।