কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগস্থলে অবস্থিত অঞ্চলে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও সোমালিয়া। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা আসে। মাত্র দেড় মাস আগে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
‘সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই নথিতে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়াল্লিম ফিকি এবং সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান রিয়াদে স্বাক্ষর করেন। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর পাশাপাশি উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত মহাসাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটি বিশ্বের ব্যস্ততম বাণিজ্যপথের অংশ এবং এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কৌশলগত অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ মোগাদিশু (সোমালিয়ার রাজধানী) ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ডকে এখনও তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পরোক্ষভাবে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানালো, যা ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিপরীতে একটি পাল্টা চাল হতে পারে।
প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তার এক্স (পূর্বে টুইটার) পোস্টে জানান যে, রিয়াদে অনুষ্ঠিত সামরিক প্রদর্শনীর সময় তিনি একাধিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সেগুলোর স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে সৌদি বা সোমালিয়ার পক্ষ থেকে এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























