মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া রাজ্যে গত মাসে একটি খনি থেকে অপহৃত ১০ কর্মীর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের এল ভার্দে নামক গ্রামীণ এলাকার একটি সম্পত্তি থেকে এই মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বাকি পাঁচজনের দেহাবশেষ শনাক্ত করতে বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত সপ্তাহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি তদন্তকারীরা।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারভিত্তিক খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিজলা সিলভার’ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল কোনার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আমাদের বর্তমান লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকা এবং নিখোঁজ বাকি কর্মীদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।”
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি তাদের খনি এলাকা থেকে একযোগে ১০ জন কর্মীকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সিনালোয়া কার্টেলের দুই প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা এবং জোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজম্যান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি থাকায় এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। মূলত কার্টেলগুলোর এই অন্তঃকোন্দলের কারণেই স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সিনালোয়া রাজ্যে সহিংসতার চিত্র বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই রাজ্যে ১ হাজার ৬৮০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত এক দশকের মধ্যে এই বছরটিকেই মেক্সিকোর অন্যতম সহিংস বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























