ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

বরগুনা-১: আওয়ামী লীগের নীরব ভোটার ও সংখ্যালঘুদের সমর্থনই জয়ের চাবিকাঠি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনা-১ আসন (বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী) পরিণত হয়েছে এক জমজমাট নির্বাচনী রণাঙ্গনে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকলেও, তাদের বিশাল ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাও নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ভোটার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বরগুনা-১ আসনে শেষ পর্যন্ত যিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন, তিনি মূলত আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টানতে সক্ষম হবেন। তবে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের বেশিরভাগই তাদের মনোভাব প্রকাশ্যে আনছেন না, যা নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। সামান্য ভোটের ব্যবধানও এখানে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে চরমোনাই পীরের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর।

বরগুনা-১ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ১৯৯৬ সালে বিএনপির আব্দুর রহমান খোকন, একই বছর (১৫ ফেব্রুয়ারির পর) আবার আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন এবং ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু এই আসন থেকে জয়লাভ করেন, যা এই আসনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ভিন্নতা তুলে ধরে।

এবারের নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের সবার বাড়ি বরগুনা সদরে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ রয়েছে বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) মাঠে থাকলেও, ভোটারদের মতে তাদের প্রচার ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্বপাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮, যা বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ে প্রায় ২৪ হাজার বেশি। ফলে এই দুই উপজেলার ভোটই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটারদের কাছে টানতে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বেশ কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে নামিয়েছেন। স্ত্রী ও ছেলে নিরন্তরভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোটারদের মন জয় করতে এবং নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। ধানের শীষের পক্ষে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।”

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, “ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছেন। আমরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের ভোটারের সমর্থন চাই। আমি এমপি হলে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বরগুনার উন্নয়নে কাজ করব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেন’

বরগুনা-১: আওয়ামী লীগের নীরব ভোটার ও সংখ্যালঘুদের সমর্থনই জয়ের চাবিকাঠি

আপডেট সময় : ০১:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনা-১ আসন (বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী) পরিণত হয়েছে এক জমজমাট নির্বাচনী রণাঙ্গনে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকলেও, তাদের বিশাল ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাও নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ভোটার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বরগুনা-১ আসনে শেষ পর্যন্ত যিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন, তিনি মূলত আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টানতে সক্ষম হবেন। তবে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের বেশিরভাগই তাদের মনোভাব প্রকাশ্যে আনছেন না, যা নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। সামান্য ভোটের ব্যবধানও এখানে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে চরমোনাই পীরের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর।

বরগুনা-১ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ১৯৯৬ সালে বিএনপির আব্দুর রহমান খোকন, একই বছর (১৫ ফেব্রুয়ারির পর) আবার আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন এবং ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু এই আসন থেকে জয়লাভ করেন, যা এই আসনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ভিন্নতা তুলে ধরে।

এবারের নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের সবার বাড়ি বরগুনা সদরে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ রয়েছে বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) মাঠে থাকলেও, ভোটারদের মতে তাদের প্রচার ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্বপাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮, যা বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ে প্রায় ২৪ হাজার বেশি। ফলে এই দুই উপজেলার ভোটই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটারদের কাছে টানতে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বেশ কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে নামিয়েছেন। স্ত্রী ও ছেলে নিরন্তরভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোটারদের মন জয় করতে এবং নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। ধানের শীষের পক্ষে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।”

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, “ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছেন। আমরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের ভোটারের সমর্থন চাই। আমি এমপি হলে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বরগুনার উন্নয়নে কাজ করব।”