আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ডেবার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিল ও নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসলাম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং এটি আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি বলেন, ধানের শীষ মার্কা গণতন্ত্রের মুক্তি, মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতীক। বিএনপি একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যার সুস্পষ্ট রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, বিএনপির ইশতেহারে দরিদ্র ও কৃষক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর মতো যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও ক্রীড়ার প্রসার, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং তরুণ সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসলাম চৌধুরী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সকল ধর্মের মানুষ, অর্থাৎ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সকলেই নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। এই দেশ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, এই বাংলাদেশ সকলের।”
ধানের শীষ প্রতীকের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ধানের শীষ হলো গণতন্ত্রের প্রতীক, গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতীক, কৃষক-শ্রমিকের প্রতীক। জেলে পাড়া থেকে শুরু করে হাটের সবজি বিক্রেতা, ঠেলাগাড়ি চালক থেকে ব্যবসায়ী—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের আশা ও সংগ্রামের প্রতীক এই ধানের শীষ।”
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ সকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে হবে এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ভোটারদের একটি ভোটই দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম।
জনসভায় তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়ন, জাহাজভাঙা শিল্প ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং তরুণ সমাজকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি এই লক্ষ্য পূরণে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 























