রংপুর, (প্রতিনিধি): দেশে জুলুম-নির্যাতন ও ভয়ভীতির দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তরুণ যুবক এবং জুলাই-যোদ্ধাদের পক্ষের শক্তিই এখন বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। অত্যাচারী, জুলুমবাজ ও নির্যাতনকারীদের এই দেশে আর ঠাঁই হবে না; বরং শান্তি, ইসলাম ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। নতুন এই বাংলাদেশকে উচ্চশিখরে নিয়ে যাবে বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা।
সোমবার বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় মাঠে এবং সন্ধ্যায় তারাগঞ্জ উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহার তার বক্তব্যে আরও বলেন, এখন আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যারা ভয় দেখায়, তারাই মূলত ভীত। বাংলার মানুষ এখন প্রতিবাদমুখর। চাঁদাবাজ, জুলুমবাজ, অর্থ পাচারকারী এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও নানান প্রলোভন দেখানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।
তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ দরিদ্র নয়, বরং দেশটাকে লুটেপুটে খেয়ে দরিদ্র করে রাখা হয়েছে। এদেশের বিত্তবানরা গরিবদের পিছনে অর্থ ব্যয় না করে বিদেশে পাচার করছেন। দেশের টাকা দেশেই খরচ হলে খেটে খাওয়া মানুষ উপকৃত হতো। দেশের বড়লোকদের সন্তানেরা সিঙ্গাপুর, লন্ডন, কানাডায় পড়ালেখা করার পাশাপাশি দেশের অর্থ সেখানেই ব্যয় করে। এই অর্থ যদি দেশের মাটিতে খরচ করা যেত, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতাম।
মহিলা ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি দল ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের লোভ দেখাচ্ছে। ব্যাংক ঋণ মওকুফ ও এনজিও থেকে উত্তোলনকৃত টাকা ফেরতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তারা ভোট চাইছে। যারা ভোটের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দেয়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা ক্ষমতায় এলে পূর্বের ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণ করে দেশের সম্পদ লুট করে ‘বেগমপাড়া’র মতো স্থানে আলিশান জীবন যাপন করবে। তাই কোনো কার্ডের লোভে পড়ে বা তাদের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এটিএম আজহার উপস্থিত জনতার প্রতি আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, এই জোটের প্রার্থীরা ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশে আর বেকারত্ব থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা অর্থ পাচারের কোনো অভিযোগ কেউ করতে পারবে না। তারা ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ ছাত্র-জনতার সাথে একত্রিত হয়ে এদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছেন। তাই এই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে মানুষের সকল আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদর্শ এবং তার দেখানো পথে এ দেশ পরিচালিত করবে।
মিঠাপুকুরে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল এবং তারাগঞ্জে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির এসএম আলমগীর হোসেন। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সুরা কমিটির সদস্য ও রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জোটের প্রার্থী মো. গোলাম রাব্বানী, মহানগর আমির এটিএম আজম খান, রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, ব্রাকসুর সাবেক ভিপি মো. মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রিপোর্টারের নাম 






















