ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

বোয়ালমারীতে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা: ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিংয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার মুজুরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে জাহিদ শেখ নামের ওই ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাচ্চু শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জাহিদ শেখ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইক নিয়ে ভ্যানে করে মুজুরদিয়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী বেড়াদী গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএনপির সমর্থক আনোয়ার ও মনোয়ার নামের দুই ভাই তার পথ আটকে মাইক বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা জাহিদ শেখকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত ভ্যানচালককে উদ্ধার করে মুজুরদিয়া বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

আহত ভ্যানচালক জাহিদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আমি মাইক বাজাতে গেলে আনোয়ার এসে হুমকি দিয়ে বন্ধ করতে বলে। আমি বন্ধ না করায় সে ও তার ভাই মনোয়ার মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।”

ঘটনার পর অভিযুক্ত আনোয়ার ও মনোয়ারকে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তারা বোয়ালমারীতে বিএনপির একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন, ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। আমাদের প্রচারণার মাইক বাজানো নিয়ে মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

তবে সাতৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম মিন্টু ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, “এটি জামায়াত বা বিএনপিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কোনো ঘটনা নয়। ভ্যানচালক মাইকিং করতে গেলে আনোয়ারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।”

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাঠানো হয়েছে। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রার্থী বা যে কেউ চাইলে মামলা করতে পারবেন। প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে তৎপর রয়েছে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

বোয়ালমারীতে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা: ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিংয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার মুজুরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে জাহিদ শেখ নামের ওই ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাচ্চু শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জাহিদ শেখ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইক নিয়ে ভ্যানে করে মুজুরদিয়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী বেড়াদী গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএনপির সমর্থক আনোয়ার ও মনোয়ার নামের দুই ভাই তার পথ আটকে মাইক বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা জাহিদ শেখকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত ভ্যানচালককে উদ্ধার করে মুজুরদিয়া বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

আহত ভ্যানচালক জাহিদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আমি মাইক বাজাতে গেলে আনোয়ার এসে হুমকি দিয়ে বন্ধ করতে বলে। আমি বন্ধ না করায় সে ও তার ভাই মনোয়ার মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।”

ঘটনার পর অভিযুক্ত আনোয়ার ও মনোয়ারকে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তারা বোয়ালমারীতে বিএনপির একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন, ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। আমাদের প্রচারণার মাইক বাজানো নিয়ে মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

তবে সাতৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম মিন্টু ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, “এটি জামায়াত বা বিএনপিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কোনো ঘটনা নয়। ভ্যানচালক মাইকিং করতে গেলে আনোয়ারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।”

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাঠানো হয়েছে। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রার্থী বা যে কেউ চাইলে মামলা করতে পারবেন। প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে তৎপর রয়েছে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।