আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার বিকেল ৪টায় উপজেলা জামায়াতের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ইশতেহার জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী কুলাউড়াকে বাংলাদেশের মানচিত্রে এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উপজেলা চা-বাগান, হাওর, মৎস্য সম্পদ এবং উর্বর ভূমিতে সমৃদ্ধ। এই প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং বিপুল তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত কুলাউড়া গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি জনপদটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানুষের ভোটাধিকারকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। গত ১৫ বছরের শাসনামলে কুলাউড়ায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে সবচেয়ে বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে এতো প্রতিকূলতার মাঝেও তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে ধৈর্য ও দূরদর্শিতার সাথে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী তার ইশতেহারে একটি নিরাপদ, মানবিক এবং ইনসাফ-ভিত্তিক কুলাউড়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এখনই সময় তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী কুলাউড়া গড়ার যাত্রা শুরু করার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে একতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আমার অঙ্গীকার।” তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রণীত জাতীয় ইশতেহারের আলোকে স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মুন্তজিম, নায়েবে আমীর জাকির হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী এবং কুলাউড়া উপজেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরকারসহ জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 























