ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

জামালপুরে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, উদ্বেগ বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৩.৬ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে ১৯.৬ শতাংশ কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে ‘বিপ্লবের’ নামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দিয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা।

জামালপুরের সাতটি উপজেলা ও পাঁচটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জেলার মোট ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২১২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ২৮৯টি সাধারণ মানের। সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে সর্বাধিক ১৬১টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৫৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে সর্বনিম্ন ৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে। যদিও ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল অংশ নেয়নি, তবুও তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক নেতারা মন্তব্য করেছেন। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর-৫ আসনের প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “জামায়াতে ইসলাম যদি কোনো গুপ্ত পরিকল্পনা করে থাকে, তবে নির্বাচনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।”

অন্যদিকে, জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সরিষাবাড়ী-৪ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “বিএনপি তাদের নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করতে পারছে। অতীতে যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় কাজ করেছে, আমাদের বন্ধু প্রতিম সংগঠনগুলোও একই পথে এগোচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এই কারণেই কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।”

জামালপুর পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক আশ্বাস দিয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে অস্ত্রবাজি বা কেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষকে এই ধরনের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

জামালপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুত। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামালপুরে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ৩১ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ২১ লক্ষ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সপ্তাহান্তে বৃষ্টিতে ভিজবে দেশের পাঁচ বিভাগ: আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

জামালপুরে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, উদ্বেগ বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৩.৬ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে ১৯.৬ শতাংশ কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে ‘বিপ্লবের’ নামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দিয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা।

জামালপুরের সাতটি উপজেলা ও পাঁচটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জেলার মোট ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২১২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ২৮৯টি সাধারণ মানের। সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে সর্বাধিক ১৬১টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৫৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে সর্বনিম্ন ৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে। যদিও ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল অংশ নেয়নি, তবুও তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক নেতারা মন্তব্য করেছেন। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর-৫ আসনের প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “জামায়াতে ইসলাম যদি কোনো গুপ্ত পরিকল্পনা করে থাকে, তবে নির্বাচনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।”

অন্যদিকে, জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সরিষাবাড়ী-৪ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “বিএনপি তাদের নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করতে পারছে। অতীতে যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় কাজ করেছে, আমাদের বন্ধু প্রতিম সংগঠনগুলোও একই পথে এগোচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এই কারণেই কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।”

জামালপুর পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক আশ্বাস দিয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে অস্ত্রবাজি বা কেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষকে এই ধরনের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

জামালপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুত। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামালপুরে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ৩১ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ২১ লক্ষ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।