আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জেলার মোট ৮৪৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩৯টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শতাংশের হিসেবে জেলার মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৩ দশমিক ৮৬ শতাংশই এখন বিশেষ নজরদারির আওতায়।
পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) তথ্য অনুযায়ী, এই ৫৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫৭টিকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২৮২টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৩০৫টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে প্রশাসন।
নির্বাচনী আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসন, যেখানে ৮৬টি কেন্দ্রকে এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) আসনে ৬৬টি, দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে ৪৬টি, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ২৫টি, দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্জ-বিরল) আসনে ২২টি এবং দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে ১২টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অধিক ভোটার সংখ্যা, অতীতের সহিংসতা বা অগ্নিসংযোগের ইতিহাস, সীমানা প্রাচীরহীন কেন্দ্র, প্রভাবশালী প্রার্থীদের বাসভবনের নৈকট্য এবং সীমান্তসংলগ্ন বা দুর্গম জনবহুল এলাকা হওয়ার বিষয়গুলো ঝুঁকি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























