ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এবারের নির্বাচনে ইতিহাসের সেরা ফলের পথে জামায়াত: রয়টার্স

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

## বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের চমকপ্রদ উত্থানের সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী অংশগ্রহণে নানা বাধা ও বর্জনের প্রেক্ষাপটে এবার চিত্র ভিন্ন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কিন্তু এবার, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র পাশাপাশি ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ:

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এক উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যারা ‘জেন-জি’ নামে পরিচিত, তাদের নেতৃত্বে গঠিত দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছে। যদিও এই তরুণ দলটি পূর্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিল, তবে তাদের সেই জনসমর্থনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তর করতে তারা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পেতে তারা আত্মবিশ্বাসী।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক প্রভাব:

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যদি কোনো স্পষ্ট রায় আসে, তবে তা ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের ভূমিকা এবং প্রভাবের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি উল্লেখ করেছেন, জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনও তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে জেন-জি ভোটারদের ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের।’

নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন চিত্র:

সারা দেশে বিএনপি’র ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র শোভা পাচ্ছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রীও চোখে পড়ছে। সড়কের মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে নির্বাচনী প্রচারণার গান। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হলো, সে সময় সর্বত্র আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।

জামায়াতের উত্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

জনমত জরিপগুলোতে ধারণা করা হচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসে সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে, যদিও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। উল্লেখ্য, দলটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিল।

ভারত ও চীনের প্রভাব:

নির্বাচনের ফলাফল আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশে চীন ও ভারতের প্রভাবের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত-ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বেইজিং বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপি’কে দিল্লির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশটি পাকিস্তানের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

জামায়াতের জেন-জি মিত্র দলটি ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’কে তাদের অন্যতম উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তবে, ইসলামি নীতিতে পরিচালিত সমাজের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জামায়াত অবশ্য বলেছে যে তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

বিএনপি’র তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাদের দল সরকার গঠন করলে, যে দেশ বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণের মূল কারণ তাদের ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তি’, ধর্মীয় পরিচয় নয়। জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী এবং ধর্মীয় বা প্রতীকী ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

সম্ভাব্য সরকারপ্রধান:

সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।

২১ বছর বয়সী তরুণ ভোটার মোহাম্মদ রাকিব, যিনি প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে পরবর্তী সরকার জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেবে এবং তাদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “(হাসিনার) আওয়ামী লীগ নিয়ে সবাই বিরক্ত ছিল। জাতীয় নির্বাচনের সময়ও মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। আমি আশা করি পরবর্তী সরকার, যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিভির পর্দায় আজকের ফুটবল: মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

এবারের নির্বাচনে ইতিহাসের সেরা ফলের পথে জামায়াত: রয়টার্স

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের চমকপ্রদ উত্থানের সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী অংশগ্রহণে নানা বাধা ও বর্জনের প্রেক্ষাপটে এবার চিত্র ভিন্ন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কিন্তু এবার, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র পাশাপাশি ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ:

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এক উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যারা ‘জেন-জি’ নামে পরিচিত, তাদের নেতৃত্বে গঠিত দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছে। যদিও এই তরুণ দলটি পূর্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিল, তবে তাদের সেই জনসমর্থনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তর করতে তারা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পেতে তারা আত্মবিশ্বাসী।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক প্রভাব:

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যদি কোনো স্পষ্ট রায় আসে, তবে তা ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের ভূমিকা এবং প্রভাবের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি উল্লেখ করেছেন, জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনও তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে জেন-জি ভোটারদের ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের।’

নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন চিত্র:

সারা দেশে বিএনপি’র ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র শোভা পাচ্ছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রীও চোখে পড়ছে। সড়কের মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে নির্বাচনী প্রচারণার গান। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হলো, সে সময় সর্বত্র আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।

জামায়াতের উত্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

জনমত জরিপগুলোতে ধারণা করা হচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসে সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে, যদিও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। উল্লেখ্য, দলটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিল।

ভারত ও চীনের প্রভাব:

নির্বাচনের ফলাফল আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশে চীন ও ভারতের প্রভাবের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত-ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বেইজিং বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপি’কে দিল্লির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশটি পাকিস্তানের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

জামায়াতের জেন-জি মিত্র দলটি ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’কে তাদের অন্যতম উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তবে, ইসলামি নীতিতে পরিচালিত সমাজের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জামায়াত অবশ্য বলেছে যে তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

বিএনপি’র তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাদের দল সরকার গঠন করলে, যে দেশ বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণের মূল কারণ তাদের ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তি’, ধর্মীয় পরিচয় নয়। জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী এবং ধর্মীয় বা প্রতীকী ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

সম্ভাব্য সরকারপ্রধান:

সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।

২১ বছর বয়সী তরুণ ভোটার মোহাম্মদ রাকিব, যিনি প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে পরবর্তী সরকার জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেবে এবং তাদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “(হাসিনার) আওয়ামী লীগ নিয়ে সবাই বিরক্ত ছিল। জাতীয় নির্বাচনের সময়ও মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। আমি আশা করি পরবর্তী সরকার, যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।”