ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ: যাবজ্জীবন সাজা চ্যালেঞ্জ করে ট্যারান্টের আপিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার সাজা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। সোমবার নিউজিল্যান্ডের একটি আদালতে এই আপিল আবেদন করেন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এই অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার দাবি, ২০২০ সালে যখন তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন, তখন তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান ট্যারান্ট। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তিনি শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ ৫১ জনকে হত্যা করেন। এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অত্যন্ত ভয়াবহ এই অপরাধের জন্য ২০২০ সালের আগস্টে তাকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির বিচারিক ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মেয়াদের সাজা।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ট্যারান্টের বর্তমান দাবি হলো—বিচার চলাকালীন তাকে ‘অমানবিক ও নিবর্তনমূলক’ পরিবেশে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে তিনি দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ওয়েলিংটনের আপিল আদালত যদি তার এই আবেদন গ্রহণ করে, তবে চলতি বছরের শেষের দিকে সাজার বিষয়ে পুনরায় শুনানি হতে পারে। উল্লেখ্য, আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাকে আদালতের বিশেষ অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘ ছয় বছর পর এই আপিল আবেদনের খবরে নিহতের পরিবার ও আহতদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লিনউড মসজিদে নিহত হুসেইনের বোন আয়া আল-উমারি জানান, এত বছর পর এমন আইনি পদক্ষেপের জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। সোমবারের এই শুনানি পর্যবেক্ষণের জন্য নিহতের স্বজন ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ভিডিও লিঙ্কের ব্যবস্থা করা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তা এক ঘণ্টা বিলম্বে প্রচার করা হয়।

ভয়াবহ এই হামলার পর নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের অস্ত্র আইন কঠোর করেন এবং অনলাইনে উগ্রবাদ ছড়ানো বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২১ সালেও ট্যারান্টের তৎকালীন আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে, পরিস্থিতির চাপে পড়েই তার মক্কেল দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান আপিল প্রক্রিয়ায় ট্যারান্টের আইনজীবীদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিভির পর্দায় আজকের ফুটবল: মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ: যাবজ্জীবন সাজা চ্যালেঞ্জ করে ট্যারান্টের আপিল

আপডেট সময় : ০১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার সাজা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। সোমবার নিউজিল্যান্ডের একটি আদালতে এই আপিল আবেদন করেন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এই অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার দাবি, ২০২০ সালে যখন তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন, তখন তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান ট্যারান্ট। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তিনি শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ ৫১ জনকে হত্যা করেন। এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অত্যন্ত ভয়াবহ এই অপরাধের জন্য ২০২০ সালের আগস্টে তাকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির বিচারিক ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মেয়াদের সাজা।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ট্যারান্টের বর্তমান দাবি হলো—বিচার চলাকালীন তাকে ‘অমানবিক ও নিবর্তনমূলক’ পরিবেশে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে তিনি দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ওয়েলিংটনের আপিল আদালত যদি তার এই আবেদন গ্রহণ করে, তবে চলতি বছরের শেষের দিকে সাজার বিষয়ে পুনরায় শুনানি হতে পারে। উল্লেখ্য, আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাকে আদালতের বিশেষ অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘ ছয় বছর পর এই আপিল আবেদনের খবরে নিহতের পরিবার ও আহতদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লিনউড মসজিদে নিহত হুসেইনের বোন আয়া আল-উমারি জানান, এত বছর পর এমন আইনি পদক্ষেপের জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। সোমবারের এই শুনানি পর্যবেক্ষণের জন্য নিহতের স্বজন ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ভিডিও লিঙ্কের ব্যবস্থা করা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তা এক ঘণ্টা বিলম্বে প্রচার করা হয়।

ভয়াবহ এই হামলার পর নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের অস্ত্র আইন কঠোর করেন এবং অনলাইনে উগ্রবাদ ছড়ানো বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২১ সালেও ট্যারান্টের তৎকালীন আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে, পরিস্থিতির চাপে পড়েই তার মক্কেল দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান আপিল প্রক্রিয়ায় ট্যারান্টের আইনজীবীদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।