ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না আসায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করবেন। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এবারের মুদ্রানীতি মূলত ‘নিয়মরক্ষার’ হতে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের কোনো নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে নীতি সুদহার (রেপো রেট) বর্তমানে যে ১০ শতাংশে রয়েছে, তা অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামবে, ততক্ষণ নীতি সুদহার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েক দফায় সুদহার বাড়িয়েছিল। একপর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কিছুটা কমেছে। তবে সবশেষ ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি পুনরায় বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে অর্থের জোগান কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলটিই নতুন মুদ্রানীতিতে প্রাধান্য পেতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনের আগে নতুন বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনাগ্রহ দেখা দেওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। গত নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, নির্বাচনের পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। সে কারণে আগামী জুন পর্যন্ত এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশে বহাল রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা অনেকটা কমেছে, যা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য এটি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। নতুন মুদ্রানীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ অর্জনের পথনকশা তুলে ধরা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নির্বাচনের পর বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে। আজ প্রকাশিতব্য মুদ্রানীতিতে মূলত মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরই বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি

আপডেট সময় : ০১:০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না আসায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করবেন। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এবারের মুদ্রানীতি মূলত ‘নিয়মরক্ষার’ হতে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের কোনো নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে নীতি সুদহার (রেপো রেট) বর্তমানে যে ১০ শতাংশে রয়েছে, তা অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামবে, ততক্ষণ নীতি সুদহার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েক দফায় সুদহার বাড়িয়েছিল। একপর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কিছুটা কমেছে। তবে সবশেষ ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি পুনরায় বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে অর্থের জোগান কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলটিই নতুন মুদ্রানীতিতে প্রাধান্য পেতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনের আগে নতুন বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনাগ্রহ দেখা দেওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। গত নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, নির্বাচনের পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। সে কারণে আগামী জুন পর্যন্ত এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশে বহাল রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা অনেকটা কমেছে, যা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য এটি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। নতুন মুদ্রানীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ অর্জনের পথনকশা তুলে ধরা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নির্বাচনের পর বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে। আজ প্রকাশিতব্য মুদ্রানীতিতে মূলত মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরই বিশেষ জোর দেওয়া হবে।