লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জামায়াত-ই-ইসলামী ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের অন্তত তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ৬ নং উত্তর কেরোয়া ইউনিয়নের মালীবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
সংঘর্ষের জেরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল ও স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রায়পুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি ইউনুস অভিযোগ করে জানান, জামায়াতের একটি মিছিল শেষ হওয়ার পর কর্মীরা মালীবাড়ির একটি হোটেলে নাশতা করতে বসেন। এ সময় জামায়াত কর্মী শাকিল আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের বিপুল ভোটের বিজয়ের কথা বললে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম ও তার ছেলে আলোর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর যুবদলের মোহাম্মদ আলী, আরিফ মোল্লাসহ আরও কয়েকজন বিএনপি কর্মী ঘটনাস্থলে এসে কাঠ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
ইউনুস আরও বলেন, “হামলাকারীরা আমাদের কর্মীদের মাথা ও মুখে আঘাত করেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন।”
তবে, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সোহাগ মিঝি এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে দলীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের কর্মীরা প্রথমে গালাগালি শুরু করে। তখন পাশের একজন ব্যক্তি তাদের থামানোর চেষ্টা করলে জামায়াত কর্মীরা তাকেই মারধর করতে শুরু করে। শাহ আলম বলেন, “আমি থামাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। কাঠের দোকানটি তাদেরই, তারাই নিজেদের মধ্যে কাঠ নিয়ে মারামারি করেছে।”
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও বলেন, দুজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















