ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভোটের সমীকরণ জটিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় প্রতীকের বাইরেও আঞ্চলিকতা, ধর্মীয় প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ এই আসনটির নির্বাচনী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তবে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মরিয়া।

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এই আসনের নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানীর মূল ভিত্তি দক্ষিণ ছাতক অঞ্চল। এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এবং উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা তাকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংকও এখানে একটি বড় ফ্যাক্টর।

অন্যদিকে, বৃহত্তর উত্তর সুরমা অঞ্চল, যা মূলত দোয়ারাবাজার ও সংলগ্ন ছাতকের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত, সেখানে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল মজিদের পর এই আসনে দলটি তেমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এই অঞ্চলের মানুষের আঞ্চলিক আবেগ ও সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটির দীর্ঘদিনের বিশাল ভোট ব্যাংক এখন এই তিন প্রার্থীর জন্যই প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কি বিএনপির বিজয় ঠেকাতে জামায়াতকে সমর্থন দেবে, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার খাতিরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বেছে নেবে? এই বিপুল সংখ্যক নীরব ভোটারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ছাতক-দোয়ারাবাসীর আগামী দিনের প্রতিনিধি কে হবেন।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য থেকেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়। ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান খসরু জানিয়েছেন, “গত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। ছাতক-দোয়ারার ঐক্যবদ্ধ জনতা ধানের শীষকে বিজয়ী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।” অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. হারুন অর রশীদ বলেছেন, “দক্ষিণ ছাতকসহ পুরো ছাতক-দোয়ারার মানুষ এখন জেগে উঠেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।” এই দুই নেতার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা নিজ নিজ দলের বিজয় নিয়ে আশাবাদী এবং জনগণের সমর্থনের উপর আস্থা রাখছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ১৭৯ জন আহত: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভোটের সমীকরণ জটিল

আপডেট সময় : ১১:৫০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় প্রতীকের বাইরেও আঞ্চলিকতা, ধর্মীয় প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ এই আসনটির নির্বাচনী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তবে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মরিয়া।

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এই আসনের নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানীর মূল ভিত্তি দক্ষিণ ছাতক অঞ্চল। এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এবং উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা তাকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংকও এখানে একটি বড় ফ্যাক্টর।

অন্যদিকে, বৃহত্তর উত্তর সুরমা অঞ্চল, যা মূলত দোয়ারাবাজার ও সংলগ্ন ছাতকের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত, সেখানে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল মজিদের পর এই আসনে দলটি তেমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এই অঞ্চলের মানুষের আঞ্চলিক আবেগ ও সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটির দীর্ঘদিনের বিশাল ভোট ব্যাংক এখন এই তিন প্রার্থীর জন্যই প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কি বিএনপির বিজয় ঠেকাতে জামায়াতকে সমর্থন দেবে, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার খাতিরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বেছে নেবে? এই বিপুল সংখ্যক নীরব ভোটারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ছাতক-দোয়ারাবাসীর আগামী দিনের প্রতিনিধি কে হবেন।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য থেকেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়। ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান খসরু জানিয়েছেন, “গত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। ছাতক-দোয়ারার ঐক্যবদ্ধ জনতা ধানের শীষকে বিজয়ী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।” অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. হারুন অর রশীদ বলেছেন, “দক্ষিণ ছাতকসহ পুরো ছাতক-দোয়ারার মানুষ এখন জেগে উঠেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।” এই দুই নেতার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা নিজ নিজ দলের বিজয় নিয়ে আশাবাদী এবং জনগণের সমর্থনের উপর আস্থা রাখছেন।