কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার মামলার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে নিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদা। বিতর্কিত এই নেতার প্রকাশ্য জনসভায় অংশগ্রহণ এবং বিএনপিতে ফেরার ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের মিঞা বাজার লতিফুনেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মঞ্চে প্রার্থীর পাশেই অবস্থান করতে দেখা যায় কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে। জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় সালাহউদ্দিন বলেন, “চৌদ্দগ্রামের বিএনপি নেতৃবৃন্দ যদি আমাকে গ্রহণ করেন, তবে আমি আবারও এই দলে ফিরতে চাই।” একইসঙ্গে তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে কামরুল হুদাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ হন জামসেদুর রহমান; ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এই আওয়ামী লীগ নেতা। এছাড়া ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজারে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি ১১ নম্বর এবং তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার ৭৯ নম্বর আসামি।
এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জামিনে মুক্ত হন। এছাড়া স্থানীয় ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারীকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার পেছনেও এই নেতার সম্পৃক্ততা ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই নেতা হঠাৎ বিএনপি প্রার্থীর ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। এমন পরিস্থিতিতে সেই আন্দোলনের খুনিদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা। অনেকে একে ‘ভোটের রাজনীতির নীতিহীন কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পেশিশক্তির দাপট বজায় রাখতে এবং ভোট ব্যাংক ভারী করতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির এই সখ্যতা নির্বাচনের মাঠে নতুন কোনো অস্থিরতার জন্ম দেয় কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এসব অভিযোগ ও বিতর্কিত নেতার বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রার্থী কামরুল হুদাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রিপোর্টারের নাম 






















