ক্রিকেট মাঠে প্রায়শই অঘটনের জন্ম হয়, আর এই অঘটনের শিকার হতে হতেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল জস বাটলারের ইংল্যান্ড। নেপালের বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাত্র ৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংলিশরা, তবে জয়ের চেয়েও বড় আলোচনা এখন হিমালয়ের দেশটির লড়াকু পারফরম্যান্স। ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন ধরেই নিয়েছিলেন, নেপালের কাছে ইতিহাস গড়তে চলেছে, তখনই অভিজ্ঞতার কাছে হার মানল এশিয়ান দলটি। শেষ ১২ বলে ২৪ রান দরকার ছিল নেপালের, ১৯তম ওভারে ১৪ রান তুলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১০ রান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নামক সোনার হরিণটি অধরাই রয়ে গেল তাদের।
শেষ ওভারে স্যাম কারানের বীরত্বপূর্ণ বোলিংয়ে নিজেদের মান বাঁচিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে ইংলিশ জায়ান্টদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল রোহিত পাউডেলের দল, তা এক অবিস্মরণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হবে। অবিশ্বাস্য নাটকীয় এই ম্যাচে হ্যারি ব্রুকের দল যদিও জিততে পেরেছে, কিন্তু নেপালের এমন লড়াকু হার কোনো অংশে জয়ের চেয়ে কম নয়।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত শের মাল্লার স্পিন জাদুতে মাত্র ১ রানেই বিদায় নেন ওপেনার ফিল সল্ট। সাত মিনিট উইকেটে টিকে দুই বল খেলে সন্দ্বীপ লামিছানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। তবে চতুর্থ উইকেটে জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের ৪৫ বলে ৭১ রানের দারুণ জুটি বিপদ থেকে উদ্ধার করে দলকে। দুজনেই ফিফটির দেখা পান; বেথেল ৫৫ ও ব্রুক ৫৩ রান করে আউট হন। আর শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ১৮ বলে ৩৯ রানের হার না মানা ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। নেপালের দীপেন্দ্র সিংহ আইরে ও নন্দন দুটি করে উইকেট নেন।
১৮৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একটুও মনোবল হারায়নি নেপাল। বরং ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরে সুস্থে এগোতে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান এই ক্রিকেট শক্তি। আসিফ শেখ ও কুশল ভুর্তেলকে দ্রুত হারালেও, তৃতীয় উইকেটে দীপেন্দ্র সিংহ আইরে ও রোহিত পাউডেলের ৫৪ বলে ৮২ রানের অসাধারণ জুটি নেপালকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। দীপেন্দ্র ৪৪ রান করে হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রানের জন্য বঞ্চিত হন, আর অধিনায়ক রোহিতের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। শেষ দিকে লোকেশ বাম ৩৯ রানে অপরাজিত থাকলেও, জয় থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থামে নেপালের ব্যাটিং যাত্রা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। ইংল্যান্ডের হয়ে ডসন দুটি উইকেট নেন।
এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস, যিনি শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের সংগ্রহকে বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে, তবে নেপালের এই লড়াই ক্রিকেট বিশ্বে তাদের এক নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























