জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই চুক্তির ফলে সম্প্রতি আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কতটুকু শুল্ক কমবে তা বলা সম্ভব না হলেও, সামগ্রিক শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের ওপর আরোপিত শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চুক্তির শর্তগুলো জনসম্মুখে চলে আসায় শুল্ক কমানোর আলোচনা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে বলে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি আমাদের এই চুক্তিটি প্রকাশিত না হতো, আমি নিশ্চিত যে আমরা ২০ শতাংশের থেকেও বেশি ছাড় পেতাম। দুঃখজনকভাবে, এটিই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়েছে। তবুও আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ২০ শতাংশে শুল্ক নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।”
নির্বাচনের ঠিক আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা দেশের রপ্তানি খাত এবং লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের এক লক্ষ কোটি টাকার রপ্তানি এবং ৭ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। আপনি কি চান যে আপনার এই ৭ লক্ষ চাকরি এবং এক লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাবনা ঝুঁকিতে পড়ুক?” তিনি ভারতের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের উদাহরণ এবং কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ১৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার চায় না ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি উচ্চ রপ্তানি শুল্কের বোঝা রেখে যেতে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে বিপদে ফেলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























