ম্যাচজুড়ে চলল রেকর্ডের খেলা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তান ইতিহাস গড়ল, কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলেন না কিউই ব্যাটাররা। টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানদের রেকর্ড ছাপিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার নতুন ইতিহাস লিখল নিউজিল্যান্ড। ৫ উইকেটের এই জয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার বৈশ্বিক রেকর্ডটিও এখন ব্ল্যাকক্যাপসদের দখলে।
১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মুজিব উর রহমানের জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্র। তবে শুরুর সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়ান টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস। ৩৬ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কিউইরা। সাইফার্ট খেলেন ৪২ বলে ৬৫ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। তার এই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তাকে এনে দেয় ম্যাচসেরার পুরস্কার। ফিলিপস ২৫ বলে ৪২ রান করে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। শেষ দিকে ড্যারেল মিচেল (২৫) ও মিচেল স্যান্টনারের (১৭) অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
এই জয়ের পথে একাধিক রেকর্ড নতুন করে লিখেছে কিউইরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালে ১৬৭ রান তাড়া করা ছিল তাদের সেরা সাফল্য। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৭৬ রান তাড়া করে জেতার শ্রীলঙ্কার আগের রেকর্ডটিও এদিন নিজেদের করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। গুলবদিন নাইবের ৩৫ বলে ৬৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় তারা। এটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ, যা ২০০৭ সালে ভারতের করা ১৮০ রানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বোলারদের ব্যর্থতায় সেই বড় পুঁজি আগলে রাখতে পারেনি রশিদ খানের দল। চেন্নাইয়ের মাঠে শেষ পর্যন্ত রেকর্ড গড়ার আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় আফগানদের জন্য, আর দাপুটে জয়ে মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (গুলবদিন ৬৩, অতল ২৯; ফার্গুসন ২/৪০)
নিউজিল্যান্ড: ১৭.৫ ওভারে ১৮৩/৫ (সাইফার্ট ৬৫, ফিলিপস ৪২; মুজিব ২/৩১)
ফল: নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: টিম সাইফার্ট।
রিপোর্টারের নাম 

























