ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী ইশতেহার ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। রোববার দুপুরে শহরের কলেজ রোড এলাকায় পৌরসভার বর্জ্য স্তূপের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে এই বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করার বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ইশতেহার ঘোষণাকালে প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টের অন্যতম কারণ এই ময়লার ভাগাড়। এর আশেপাশে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথচারী ও মুসুল্লিদের চরম দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। পৌরবাসীকে এই অসহনীয় পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে এই প্রার্থী জানান, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তাকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, শোষিত মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল দর্শন।

নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং আদিবাসী সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এছাড়া হাওর এলাকা দখলমুক্ত করা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন প্রীতম দাশ। অবকাঠামোগত উন্নয়নে পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর এবং যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের অঙ্গীকার করেন তিনি।

কৃষকদের জন্য সার ও সেচসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তার ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ‘কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার’ ও ‘ডিজিটাল হাব’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে ‘হোমস্টে’ ও ‘ইকো-কালচারাল ট্যুরিজম’ উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান প্রীতম দাশ। এছাড়া ইমাম ও পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণই মূল লক্ষ্য: স্পিকার

ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী ইশতেহার ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। রোববার দুপুরে শহরের কলেজ রোড এলাকায় পৌরসভার বর্জ্য স্তূপের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে এই বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করার বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ইশতেহার ঘোষণাকালে প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টের অন্যতম কারণ এই ময়লার ভাগাড়। এর আশেপাশে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথচারী ও মুসুল্লিদের চরম দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। পৌরবাসীকে এই অসহনীয় পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে এই প্রার্থী জানান, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তাকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, শোষিত মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল দর্শন।

নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং আদিবাসী সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এছাড়া হাওর এলাকা দখলমুক্ত করা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন প্রীতম দাশ। অবকাঠামোগত উন্নয়নে পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর এবং যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের অঙ্গীকার করেন তিনি।

কৃষকদের জন্য সার ও সেচসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তার ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ‘কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার’ ও ‘ডিজিটাল হাব’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে ‘হোমস্টে’ ও ‘ইকো-কালচারাল ট্যুরিজম’ উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান প্রীতম দাশ। এছাড়া ইমাম ও পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।